Amardesh
আজঃঢাকা, শুক্রবার ৮ মার্চ ২০১৩, ২৪ ফাল্গুন ১৪১৯, ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 আমার দেশ-এর সাথে আছেন তো?
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

সরকারি জমি দখলে নিচ্ছে সরকারদলীয় ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট

ডেস্ক রিপোর্ট
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
বিভিন্ন স্থানে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাছাড়া সরকারি জমি দখলে নিচ্ছে সরকারদলীয় ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট। এ ব্যাপারে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
রাঙামাটি : রাঙামাটিতে আবারও সরকারি প্রতিষ্ঠানের জায়গা দখলে নিচ্ছে সরকারদলীয় ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট। চক্রটি রাঙামাটি শহরের চম্পকনগর এলাকায় পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদারের বাসভবন থেকে কয়েকশ’ গজ দূরে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের চার পাশের জায়গা ঘিরে ফেলে। গত মঙ্গলবার যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী দিনে-দুপুরে এ দখল কর্মকাণ্ড চালায়। দখলবাজদের হুমকির মুখে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকশ’ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রশিক্ষণার্থী।
প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল লিপি চাকমা অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় যুবক জামিল মোস্তফা, বারেক, পেয়ারু, নাছির, জসীমসহ আরও বেশ কয়েকজনের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন এসে ইনস্টিটিউটের ছাত্রী হেস্টেলের চার পাশে ইনস্টিটিউটের নিজস্ব প্রায় দশ শতাংশ জায়গা খুঁটি দিয়ে ঘিরে ফেলে। এরা সবাই যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। দখলের খবর পেয়ে দখলকাজে নিষেধ করতে গেলে দখলদাবাজরা প্রিন্সিপাল ও অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। পরে সিভিল সার্জন বিষয়টি কোতোয়ালি থানায় অবগত করলে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে দখলবাজরা সরে যায়। পরে আবারও দখলবাজরা ওই জায়গায় হাঁস-মুরগির খামার প্রকল্পের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়। এ ঘটনার পর ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রশিক্ষণার্থীরা চরম নিরপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
চম্পকনগর এলাকার আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মুন্না জানান, স্থানীয় কিছু যুবক সমবায়ের মাধ্যমে পাশের লেকে হাঁস-মুরগির খামার করার লক্ষ্যে ইনস্টিটিউট সংলগ্ন জায়গায় টঙঘর নির্মাণ করতে যায়। পরে প্রতিষ্ঠান থেকে অভিযোগ এলে তারা সরে আসে। উল্লেখ্য, গতবছর রাঙামাটি শহরের একমাত্র বাস টার্মিনাল দিনে-দুপুরে দখল করে নেয় সরকার সমর্থক ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট। এখনও টার্মিনালটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কাটাখালী নদী আবার দখলদারদের কবলে। নদীর দু’পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পৌর এলাকার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ এই কাটাখালী নদী। প্রভাবশালীদের দখল আর মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে এই কাটাখালী নদী। তার ওপর একশ্রেণীর মত্স্য ব্যবসায়ী নদীর মাঝপথে আড়াআড়ি করে বাঁশের বাঁধ দেয়ার ফলে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে। বাঁশের বাঁধের নিচে মাটি দিয়েও বাঁধ দেয়া হচ্ছে। যে কারণে নদীর গভীরতা কমে আসছে। ময়লা-আবর্জনায় দুর্গন্ধ হয়ে পড়েছে নদীর পানি। নদীর দু’ধারে প্রভাবশালী এই মহলরা বাঁশের বেড়া দিয়ে শাকসবজি চাষসহ গরু-ছাগল পালন করছে। অনেকে নদীর দু’পাশের জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। নদীর দু’পাশে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ না করলে শহরবাসী বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পাশাপাশি পরিবেশ বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
পাবনা : পাবনার বেড়া পৌর মেয়র আবদুল বাতেন হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে বৃশালিখায় পাউবোর জায়গায় মাটি ভরাট অব্যাহত রেখেছে। স্কেভেটর মেশিনের সাহায্যে বড়পিটে দ্রুত মাটি ভরাট করা হচ্ছে। হাইকোর্টের বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত ৯ জানুয়ারি শুনানি শেষে বেড়া উপজেলার ইছামতি ও হুরা সাগর নদীর বড়পিট ও জলাশয়ে মাটি ভরাট, জমি দখল ও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ ও নিজ খরচে মাটি অপসারণের নির্দেশ দিয়ে ২ সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। আদালত নোটিশ প্রদান করে স্থানীয় সরকার সচিব আবু আলম মোহম্মদ শহীদ খান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান একেএম শহিদুজ্জামান, পাবনার জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর, বেড়া পৌরসভার মেয়র আবদুল বাতেন, বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কবিবুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফতেখার উদ্দিন শামীম ও বেড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল হাই সরকারকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ কর্তৃক জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দিয়েছেন। আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোকলেছুর রহমান। অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এবং জলাধার আইন ২০০০ অনুসারে জলাশয় ভরাট ও নদী ভরাট বেআইনি। এ আইন থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় পৌরসভা ও বেড়া পাউবো কর্তৃপক্ষ একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে অবৈধভাবে বিভিন্ন চাষযোগ্য জমি এবং নদী বেআইনিভাবে দখল করে চলছে। বেড়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কবিবুর রহমান বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ পাওয়ার পর বেড়া পৌর কর্তৃপক্ষকে অফিসিয়ালি চিঠি দিয়ে মাটি ভরাট করতে নিষেধ করা হয়েছে।
এরপরও মাটি ভরাট করলে আমার করার কিছু নেই বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে পাবনা জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান ফোনে জানান, হাইকোর্টের আদেশ পেয়েছি। বেড়া পৌর মেয়র মাটি ভরাট করছেন কি-না তা তার জানা নেই বলে তিনি জানান। বেড়া পৌর মেয়র আলহাজ আবদুল বাতেনকে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি কল রিসিভ করেননি বিধায় তার মতামত গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) : সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে শতবছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারের কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী সরকারি খালি জায়গাগুলো ক্রমেই দখল হয়ে যাচ্ছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে নদীপথে মালামাল ওঠানামার রাস্তা। যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে দুর্গন্ধে হারিয়ে যাচ্ছে ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারের অতীত ঐতিহ্য। সিলেটের এক সময়ের নদীবন্দর খ্যাত ফেঞ্চুগঞ্জ বাজার। সে সময়ে এখানে আইজিআরএসএন কোম্পানির জাহাজ মেরামত কারখানা অবস্থিত ছিল। কালের বিবর্তনে এগুলো হারিয়ে গেলেও ঐতিহ্য হারায়নি ফেঞ্চুগঞ্জ বাজার। বছরে অর্ধকোটি টাকারও ওপর রাজস্ব আয় হয় এই বাজার থেকে।
বিগত ২০০৭ সালের তত্কালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাজারের পূর্ববাজার ডাকবাংলা থেকে পশ্চিমবাজার পর্যন্ত সরকারি খালি জায়গাগুলো অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে উচ্ছেদ করা হলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর একটি প্রভাবশালী মহল স্থানীয় ভূমি অফিসের যোগসাজশে ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারের কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী খালি জায়গাগুলো ক্রমে কাঁচাঘর তুলে দখল করে নিচ্ছে।
এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) দরের শাওয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এর (অবৈধ দখল) সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিভিন্ন সমস্যার কারণে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি তবে শিগগিরই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে।
বাঘা (রাজশাহী) : রাজশাহীর বাঘায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাড়ি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, উপজেলার পীরগাছা গ্রামের মৃত আবদুল গনি মণ্ডলের ছেলে আবদুল লতিফ মণ্ডল ৬৪ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন যাবত ভোগদখল করে আসছে।
ওই জমি উপজেলার তেথুলিয়া গ্রামের মৃত এরাদ মণ্ডলের ছেলে আবদুস সালাম ওরফে লাল, সামছুল, আহম্মেদ আলীর ছেলে মশিউর রহমান সূর্য, ছাবের আলীর ছেলে শাহিন, আবদুস সাত্তারের ছেলে বাদশা, আফাজ উদ্দিনের ছেলে আহসান হাবিব, মোয়াজ্জেম, মেকরুল, স্বপনসহ ৭-৮ জন গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ওই জমির সব মসুর জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে যায়। ওই সময় মৃত সিরাজ উদ্দিনের স্ত্রী জাহেরা বেওয়া বাধা দিলে তাকে পিটিয়ে জখম করে।
এলাকার লোকজন তাকে উদ্ধার করে বাঘা হাসপাতালে ভর্তি করে। ওই ঘটনায় বাঘা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন তিনি বাদী হয়ে। এছাড়া তিনি বাদী হয়ে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। ওই আবেদন আদালত গ্রহণ করে গত ২০০৭ সালের ৮ মার্চ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।