Amardesh
আজঃঢাকা, শুক্রবার ৮ মার্চ ২০১৩, ২৪ ফাল্গুন ১৪১৯, ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 আমার দেশ-এর সাথে আছেন তো?
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

দেশে ফিরেছে ফুটবল দল

স্পোর্টস রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
কাঠমান্ডুতে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে ‘ডি’ গ্রুপের খেলা শেষে গতকাল বিকালে ঢাকা ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ‘ডি’ গ্রুপে রানারআপ হয়েছে বাংলাদেশ। ৭ পয়েন্ট নিয়ে ফিলিস্তিন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সরাসরি দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে যায়। বাংলাদেশ ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে আছে। এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের ৫ গ্রুপের সেরা ৫ দল সরাসরি চ্যালেঞ্জ কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। ২০১৪ সালে চূড়ান্ত পর্বের লড়াইয়ে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে স্বাগতিক মালদ্বীপ। ৫ গ্রুপের সেরা দুই রানারআপ দলও চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। ৫ গ্রুপের মধ্যে এখন পর্যন্ত তিন গ্রুপের খেলা শেষ হয়েছে। ‘এ’ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে মিয়ানমার চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ‘সি’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে চূড়ান্ত পর্বে উঠেছে আফগানিস্তান। এই তিন গ্রুপের সেরা রানারআপে এখনও শীর্ষে আছে বাংলাদেশ। ‘এ’ গ্রুপের রানারআপ ভারত বাংলাদেশের মতো ৬ পয়েন্ট পেলেও গোলগড়ে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে। ‘বি’ গ্রুপে আছে ফিলিপাইন, তাজিকিস্তান, পাকিস্তান ও ম্যাকাও। আর ‘ই’ গ্রুপের দলগুলোর মধ্যে তুর্কমেনিস্তান, ব্রুনাই ও কম্বোডিয়ার খেলা চলছে। এই গ্রুপ দুটোর খেলা শেষ হবে ২৬ মার্চ। এই দু’গ্রুপের একটি রানারআপকে টপকাতে পারলেই চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে বাংলাদেশ। পয়েন্ট আর গোলগড়ে বাংলাদেশ বেশ ভালো অবস্থানে আছে। ভাগ্য খুব বেশি অপ্রসন্ন না হলে মালদ্বীপে ২০১৪ সালে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে বাংলাদেশের খেলার ভালোই সম্ভাবনা আছে।
চ্যালেঞ্জ কাপে ‘ডি’ গ্রুপে বাংলাদেশ ০-১ গোলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফিলিস্তিনের কাছে হেরে যায়। দ্বিতীয় ম্যাচে ২-০ গোলে হারায় স্বাগতিক নেপালকে। শেষ ম্যাচে দুর্বল উত্তর মারিয়ানা আইল্যান্ডকে হারায় ৪-০ গোলে। এ টুর্নামেন্ট শেষেই বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার সুজনের অবসর নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্টের অনুরোধে তিনি অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। দেশে সুবিধাজনক সময়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্য দিয়ে সুজন অবসর নেবেন।
এশিয়ার ফুটবল উন্নয়নে প্রথম সারির দেশগুলো এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। এশিয়ার মধ্যমসারির দেশগুলো নিয়ে আয়োজন করা হয় এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ। আর এশিয়ার নিচের দিকের দেশগুলো নিয়ে আয়োজিত হচ্ছে প্রেসিডেন্টস কাপ ফুটবল। এশিয়ার মধ্যমসারির ফুটবল খেলুড়ে দেশ হওয়ায় বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে খেলবে। ২০০৬ সালে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের প্রথম আসরটি বসে বাংলাদেশে। সে আসরে শ্রীলঙ্কাকে ৪-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় তাজিকিস্তান। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন তাজিকিস্তানের কাছে ৬-১ গোলে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয়। সে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের কোচ ছিলেন আর্জেন্টিনার আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানি। দলনেতা ছিলেন বাফুফের বর্তমান সহ-সভাপতি আরিফ খান জয়। সাবেক ফুটবলার জয়ের নেতৃত্বে দেশের মাটিতে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হারের লজ্জা পায়। ম্যাচে দেশসেরা গোলকিপার আমিনুল একের পর এক গোল হজম করেন অসহায়ভাবে। ২০০৮ সালে ভারতের মাটিতে দ্বিতীয় আসরে স্বাগতিক ভারত ৪-১ গোলে তাজিকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১০ এবং ২০১২ সালে টানা দু’বার চ্যাম্পিয়ন হয় উত্তর কোরিয়া। শ্রীলঙ্কায় তৃতীয় আসরে উত্তর কোরিয়া ফাইনালে ৫-৪ গোলে টাইব্রেকারে তুর্কমেনিস্তানকে হারিয়ে শিরোপা জেতে। ২০১২ সালে নেপালে ফাইনালে ২-১ গোলে আবারও তুর্কমেনিস্তানকে হারিয়ে শিরোপা জেতে এ পর্যন্ত দু’বার বিশ্বকাপ খেলা উত্তর কোরিয়া।
এদিকে দেশে ফিরেই ফুটবলাররা আবার মাঠে নামছেন। স্বাধীনতা কাপ শেষ করেই পেশাদার লিগের অবশিষ্ট রাউন্ডের ম্যাচ খেলতে হচ্ছে জাতীয় দলের ফুটবলারদের। আগামী দু’একদিনের মধ্যেই স্ব-স্ব ক্লাবের পক্ষে অনুশীলনে যোগ দেবেন তারা।