Amardesh
আজঃঢাকা, শুক্রবার ৮ মার্চ ২০১৩, ২৪ ফাল্গুন ১৪১৯, ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 আমার দেশ-এর সাথে আছেন তো?
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে শাহবাগিদের তামাশা

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ নিয়ে শাহবাগিরা গতকাল তামাশা করেছে। রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শ্রেণীর এক ছাত্রকে শেখ মুজিব সাজিয়ে, মুজিব কোট পরিয়ে ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে অভিনয় করানো হয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন—ঐতিহাসিক ওই ঘটনাটিকে শাহবাগিরা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার জন্যই এমন করেছে। গতকাল শাহবাগিদের সমাবেশটি হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সমাবেশে শাহবাগি ব্লগার, ছাত্রলীগ এবং মহাজোটের শরিক বামদের ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা বলে, শেখ মুজিবই তাদের আন্দোলনের দিকনির্দেশনা।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি চিরতরে উত্খাত করার জন্য গতকালও ঘোষণা দেয় শাহবাগিরা। আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সামনে রেখে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আজ শাহবাগে অনুষ্ঠিতব্য নারী জাগরণী সমাবেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারী শ্রমিকদের শাহবাগে পাঠাতে গতকাল মালিকদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে কথিত ব্লগার ও শাহবাগ আন্দোলনের মুখপাত্র রাজাকার-নাতি ডা. ইমরান এইচ সরকার। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগিদের চলমান গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে জনগণের সাড়া না পাওয়ায় স্বাক্ষর নেয়ার দিন আগামী ২২ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে গতকালের সমাবেশে জানানো হয়। গণস্বাক্ষর কর্মসূচির শেষ দিন ছিল গতকাল। এছাড়া শাহবাগিদের গতকাল সকালে আয়োজিত হরতাল প্রতিহত করার মিছিলেও জনগণের সাড়া মেলেনি। সামনে ও পেছনে বিপুলসংখ্যক র্যাব, পুলিশ নিয়ে মিছিলের আয়োজন হলেও তাতে ক্ষমতাসীন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদেরই উপস্থিতি ছিল বেশি।
জামায়াতে ইসলামী নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ফোরাম নামের একটি সংগঠনের নামে গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শাহবাগে কথিত এ আন্দোলন শুরু হয়। তবে প্রথম দিন থেকেই এর নেতৃত্বে আছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিক বিভিন্ন বাম দলের নেতারা। আওয়ামী লীগ ও বামপন্থী বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠানের নেতারা প্রথম দিন থেকেই এতে সংহতি জানায়।
গতকাল বিকাল ৪টায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। এরপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল পাঠ করা হয়। তথাকথিত বিচারক ও শাসকের দ্বৈত ভূমিকায় আবির্ভূত হওয়া ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক এবং আওয়ামী লীগ সমর্থক চিকিত্সকদের সংগঠন স্বাচিপ নেতা ডা. ইমরান এইচ সরকার সমাবেশে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের সংগ্রামের দিকনির্দেশনা। বঙ্গবন্ধু আমাদের প্রাণের আকাশ। ৫ ফেব্রুয়ারি যে আন্দোলনের সূত্রপাত, তার দিকনির্দেশনা হলো ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ। ’৭৫ সালে তাকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি ফের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আজও তারা দেশের স্বাধীনতাকে ভূলুণ্ঠিত করতে ষড়যন্ত্র করছে। তাদের রুখে দিতে আমাদের আন্দোলন চলছে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধসহ ৬ দফা দাবির সব দাবি মেনে নেয়ার আগ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।’ এরপর ইমরান সমাবেশে আগতদের শপথবাক্য পাঠ করায়।
সমাবেশে বক্তব্য শুরুর আগে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র তাহসিনা তাওয়াজ অপূর্বকে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ পাঠের তামাশা করা হয়। সমাবেশে পর্যায়ক্রমে আরও বক্তব্য দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তমাল, ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি এসএম শুভ, ছাত্রমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক তানভীর রুশমত, ছাত্র আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নজরুল শিকদার, বিপ্লবী ছাত্র সংহতির সভাপতি মীর রেজাউল আলম, ছাত্রঐক্য ফোরামের আহ্বায়ক সোহান সুবহান, জাসদ ছাত্রলীগ সভাপতি হোসাইন আহমেদ তাফসির, সাধারণ সম্পাদক শামছুল আলম, ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি সাইফুজ্জামান সাকন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি শরিফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি ফারুক আহমেদ আবির, ছাত্রমৈত্রী সভাপতি আল-আমিন মাহাদী, সাধারণ সম্পাদক মানোয়ার হোসেন, ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মনোজিত্ প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করে রশিদুল হাসান ও খান আসাদুজ্জামান মাসুম।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি শাহবাগের মঞ্চ থেকে যে কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, তারই অংশ হিসেবে গতকাল শাহবাগিদের কথিত টানা আন্দোলনের ৩১তম দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শাহবাগের বাইরে এটি ছিল ষষ্ঠ সমাবেশ। এর আগে রাজধানীর মিরপুর, রায়েরবাজার বধ্যভূমি, মতিঝিল, বাহাদুরশাহ পার্কের কাছে ও যাত্রাবাড়ীতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া গতকাল সকালে শাহবাগ থেকে হরতাল প্রতিহত করার মিছিল বের করে শাহবাগিরা। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তারা মিছিল নিয়ে শাহবাগ থেকে মত্স্য ভবন-প্রেস ক্লাব ও পল্টন হয়ে আবার শাহবাগে ফিরে আসে। এর আগে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে ক্ষমতাসীন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনের জোট ‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ হরতালবিরোধী একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে টিএসসি হয়ে শাহবাগে এসে যোগ দেয়।