Amardesh
আজঃঢাকা, শুক্রবার ৮ মার্চ ২০১৩, ২৪ ফাল্গুন ১৪১৯, ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৪ হিজরী    আপডেট সময়ঃ রাত ১২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 সাপ্তাহিকী
 আমার দেশ-এর সাথে আছেন তো?
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --
 

পুলিশের দানবীয় আচরণ : হত্যাযজ্ঞ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো নীরব

স্টাফ রিপোর্টার
« আগের সংবাদ
পরের সংবাদ»
বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দানবীয় আচরণ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আইন ও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে তারা, গণহত্যায় মেতে উঠেছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনগুলোতে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও ককটেল নিক্ষেপ করছে। বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে সাউন্ড গ্রেনেডের মতো ভয়ঙ্কর অস্ত্রের। গত ৮ দিনে র্যাব-পুলিশের গুলিতে শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। নিগ্রহের শিকার হয়েছেন বিরোধীদলীয় নারী সংসদ সদস্যরা। এখানেই শেষ নয়, বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় হানা দিয়ে আটক করে থানায় নিয়ে নির্মমভাবে মেরে পঙ্গু করে দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ কয়েকটি জেলায় মানুষের শরীরে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ। সরকারের নির্দেশেই র্যাব-পুলিশ সদস্যরা আইনবহির্ভূত এসব কাজ করছে বলে বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেআইনি কাজের প্রশংসা করে বক্তব্য দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেসব সদস্য সরকারের এ নির্দেশ মানছে না, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। নয়াপল্টনে বিএনপির মিছিলে গুলি না করায় গতকাল দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
সারা দেশে সরকারি বাহিনী হত্যাযজ্ঞ চালালেও নিশ্চুপ মানবাধিকার সংগঠনগুলো। সারা দেশে গণহত্যা চললেও দু-একটি ছাড়া মানবাধিকার সংগঠনগুলো কোনো প্রতিবাদ করেনি। উল্টো বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান সাধারণ মানুষকে হত্যা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উস্কে দিয়ে বক্তব্য রেখেছেন। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ও গণহত্যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। তবে এসব আমলে নিচ্ছে না মহাজোট সরকার ও র্যাব-পুলিশের অতি উত্সাহী সদস্যরা।
নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত ২ মার্চ এক বিবৃতিতে বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সরাসরি গুলিবর্ষণে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশে চলমান গণহত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘জামায়াতের বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর সরাসরি গুলিবর্ষণেই বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সংযত ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে প্রকাশ্যে নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়ার জন্য সংস্থাটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
বিরোধীদলীয় চার নারী সংসদ সদস্যকে গতকাল নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় গেট খোলা রেখেই গাড়িটি দ্রুত গতিতে চালানো শুরু করলে মাইক্রো থেকে এমপি শাম্মী আকতার এবং এক পুলিশ সদস্য ছিটকে রাস্তায় পড়েন। অল্পের জন্য নির্ঘাত মৃত্যুর হাত থেরে রক্ষা পান শাম্মি আক্তার। এতে শাম্মীর মাথায় আঘাত লাগে। পুলিশ কোনো চিকিত্সা না দিয়েই ফের টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে তড়িঘড়ি করে মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। দিনভর তাদের সেখানেই রাখা হয়। সন্ধ্যায় তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এর আগে গত ৬ মার্চ নয়াপল্টনে বিএনপির মিছিলে কোনো ধরনের উস্কানি ছাড়াই মুহুর্মুহু গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ও ককটেল নিক্ষেপ করে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা। এতে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, মহানগর সদস্য সচিব আবদুস সালামসহ দেড় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনায় চরম ঔদ্ধত্য দেখান, মতিঝিল জোনের এডিসি মেহেদী হাসান। তিনি দাবি করেন, বিএনপি কার্যালয় নয়, গুলি চালানো হয়েছে জামায়াত-শিবির লক্ষ করে। তবে নয়াপল্টনে জামায়াত-শিবিরের অফিসও নেই, আর ওই সময় সেখানে জামায়াত-শিবিরের কোনো নেতাও উপস্থিত ছিলেন না—সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি এডিসি মেহেদী হাসান। নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে গুলি চালানোর কথা অস্বীকার করে এডিসি মেহেদী বলেন, সমাবেশ শুরু হওয়ার আগে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা একটি মিছিল থেকে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটালে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ, লাঠিচার্জ ও ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ সদস্যরা বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর বৃষ্টির মতো গুলি চালিয়ে পণ্ড করে দেয়। তারা বিএনপির কার্যালয় লক্ষ করে কাছ থেকে গুলি চালিয়েছে। একইভাবে গত ২ ফেব্রুয়ারি নয়াপল্টনে বিএনপির মিছিলে গুলি ও গ্রেনেড মারার পর কেন্দ্রীয় নেতাদের নামে উল্টো মামলা করে পুলিশ। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ফুঁসে ওঠেন সাধারণ মুসল্লিরা। ওই সময়ে সরকারের নির্দেশে সারা দেশে নির্বিচারে গুলি করে পাখির মতো মানুষ হত্যা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাদের গুলিতে শতাধিক মানুষ খুন হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও টেলিভিশনের সম্প্রচারিত সংবাদে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে আটকের পর খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করছে পুলিশ। চট্টগ্রামে আটকের পর চোখ উপড়ে ফেলে নৃশংসভাবে এক শিবির কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। কক্সবাজারে শিবির কর্মীর শরীরে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করা হয়েছে। সাতক্ষীরায় বেশ কয়েকজনকে ধরে গুলি করেছে পুলিশ। এসব ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের ওপর পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।
একাধিক পুলিশ সদস্য নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, রাস্তায় নামলেই বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীর ওপর গুলি করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা রয়েছে। বিশেষ করে জামায়াত ও শিবির নেতাকর্মীরা যাতে রাস্তায় কোনোভাবে দাঁড়াতে না পারে সেজন্য সব ধরনের আক্রমণ করার নির্দেশ দেয়া আছে। পুলিশ সদস্যদের এ তথ্যের মিল পাওয়া গেছে সরকারের নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে। সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গণহত্যা চালালেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সরকার। উল্টো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে তাদের আরো উস্কে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। সরকারদলীয় আরও অনেক সিনিয়র নেতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ গণহত্যা কার্যক্রমকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছেন।
বিভিন্ন ইস্যুতে সোচ্চার থাকলেও গণহত্যা নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই দেশীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ ছাড়া কোনো সংগঠন বিবৃতিও দেয়নি। বরং দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যানারে রাজধানীতে গত বুধবার ‘দলীয় ইস্যু’ নিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন তারা।