হায়! ধর্মদ্রোহীদের থাবা মসজিদের আঙিনায়
জহির উদ্দিন বাবর
| « আগের সংবাদ | পরের সংবাদ» |
রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদ। ইমাম সাহেব খ্যাতিমান ইসলামি পণ্ডিত এবং সুবক্তা। জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক মরহুম হুমায়ূন আহমেদও তার পেছনে জুমা ও ঈদের নামাজ পড়তেন। ওই খতিব সাহেবের বক্তব্যে মুগ্ধ ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। যুক্তি দিয়ে আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে তিনি কথা বলেন। তার বয়ান শুনে মুগ্ধ হবেন না এমন শ্রোতা পাওয়া কঠিন। আমার প্রিয় রাসুলকে (সা.) নিয়ে ব্লগে কটূক্তিকারী মৃত এক নাস্তিকের জন্য দোয়া করার চাপ এলো তার ওপর। স্পষ্টভাষী প্রাজ্ঞ এই আলেম দোয়া তো করলেনই না বরং ধর্মদ্রোহিতার খোলস উন্মোচন করে খুতবা দিলেন। এই ‘অপরাধে’ তার ওপর নেমে এলো খড়গ। হুমকি, মামলা, অপদস্থতা সবকিছুর মুখোমুখি হতে হলো তাকে। দ্বীনের প্রকৃত কথাটি বলাই তার ‘অপরাধ’।
কলাবাগান লেক সার্কাস মসজিদের ইমাম মাওলানা মুনিরুল ইসলাম। মহব্বতে রাসুলের (সা.) বয়ান করতে গিয়ে প্রসঙ্গক্রমে ‘নিজের আপনজন এমনকি প্রাণের চেয়েও ভালোবাসতে হবে নবীকে’ হাদিসটি শুনিয়েছিলেন। সহিহ হাদিস শুনেই তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন একটি বিশেষ দলের নেতা ওই মসজিদের সেক্রেটারি। একপর্যায়ে এলাকার বেনামাজি গুণ্ডা-পাণ্ডাদের নিয়ে ইমাম সাহেবকে হুমকি দিলেন তিনি। নামাজ পড়ানো থেকে বিরত থাকতে বললেন। পুলিশে দেয়ার প্রস্তুতিও নিলেন। একপর্যায়ে ইমাম সাহেব নিজের সম্মান নিয়ে অব্যাহতি দিয়ে চলে এলেন।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি মসজিদের ইমাম মাওলানা কামরুল হাসান। ঈমান ও নাস্তিকতা বিষয়ে বয়ান করায় একটি বিশেষ দলের অনুগত মসজিদ কমিটি তাকে অপদস্থ করে তাড়িয়ে দেয়। পুরান ঢাকার ওয়ারিতে একই ঘটনা ঘটে। উত্তরার খামারপাড়ার একটি মসজিদের ইমাম সাহেব রাসুল সম্পর্কে কটূক্তির প্রতিবাদে বয়ান করতে গিয়ে মসজিদেই অপদস্থ হলেন। রাজধানীর মিরপুর-৬ নম্বর মাদরাসা বন্ধ করে দেয়া হয় ১০ নম্বরের গোলচত্বরের তথাকথিত ‘গণজাগরণ মঞ্চে’ গিয়ে একাত্মতা ঘোষণা না করায়। মিরপুর-১৪ নম্বরের খাদেমুল ইসলাম মাদরাসার প্রিন্সিপালকে অপদস্থ করা হয় ‘গণজাগরণ মঞ্চে’ গিয়ে স্বঘোষিত নাস্তিকদের আন্দোলনের পক্ষে বক্তব্য না দেয়ায়।
মাত্র কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হলো এখানে। এছাড়াও রাজধানীর প্রায় শ’খানেক মসজিদের ইমামের চাকরি চলে গেছে প্রিয় নবীজীর (সা.) শানে কথা বলতে গিয়ে। ইসলামের প্রকাশ্য শত্রুদের বিরুদ্ধে কথা বলাই ছিল তাদের ‘অপরাধ’। রাজধানীর বাইরেও বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো আলেমের চাকরিচ্যুতি ও অপদস্থতার খবর পাওয়া গেছে। সত্য কথা বলায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ওয়াজ মাহফিলে বক্তাদের অপদস্থ করেছে একটি বিশেষ চক্রের গুণ্ডাপাণ্ডারা।
এমনটা হওয়ার তো কথা ছিল না। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশ বলে গর্ব করি আমরা। অথচ আমাদের প্রধান উপাসনালয় মসজিদগুলোও আজ নিরাপদ নয় ধর্মদ্রোহীদের থাবা থেকে। আমার প্রিয় নবীকে (সা.) নিয়ে যে কুলাঙ্গার কটূক্তি করেছে তার মারা যাওয়ার পর কেন দোয়া করতে হবে! একজন নাস্তিকের জন্য দোয়া করার অধিকার তো আমার ইসলাম দেয়নি। জীবদ্দশায় যে ঈমান-ইসলাম-নবী সম্পর্কে কটূক্তি করেছে তার জন্য দোয়া তো দূরের কথা পবিত্র মসজিদে কোনো মুসলমান নামটিও উচ্চারণ করতে পারে না। তার নামের সঙ্গে ইসলামী পরিভাষার ‘শহীদ’ শব্দটি যোগ করা অন্যায়।
নাস্তিক ও খোদাদ্রোহীদের পক্ষে যারা দাঁড়ায় তারা মুসলমান হতে পারে না। অথচ বর্তমানে মসজিদের মতো পবিত্র স্থানগুলো তারাই দখল করে নিয়েছে। একটি বিশেষ গোষ্ঠী ধর্মের অপব্যবহার রোধে মুখে ফেনা তুলে ফেললেও তারাই ধর্মকে নিয়ে খেলছে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বেশিরভাগ মসজিদের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নিয়ে গেছে। তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলের অনুগত মুসলিম নামধারী এই চক্রটি কৌশলে মসজিদেও ধর্মহীনতার বিষবাষ্প ঢুকিয়ে দিতে চাচ্ছে। সমাজ যাদেরকে ধর্মীয় নেতা হিসেবে মানে, শ্রদ্ধা করে; সেই ইমাম-খতিবদের ওপর চড়াও হচ্ছে এই চক্রটি। যে মিম্বর থেকে ধ্বনিত হবে ইসলামের সঠিক দিকনির্দেশনা সেই মিম্বরের কণ্ঠ রোধ করে দিতে চায় তারা।
চাকরি হারানো ও অপদস্থতার ভয়ে অনেক ইমাম-খতিবই মুখ খোলেন না। কিন্তু সাহস করে সত্যটি বলে ফেললে এর বিজয় সুনিশ্চিত। সম্প্রতি এমনই একটি সাহসী নজির স্থাপন করলেন রাজধানীর কাজিপাড়া পূর্ব মণিপুর মসজিদের খতিব। তরুণ ও সাহসী এই আলেমকে এক মৃত নাস্তিকের জন্য দোয়া করতে একটি চিরকুট দেয়া হয়েছিল। তিনি দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ! আমাকে এক নাস্তিকের জন্য দোয়া করতে বলা হয়েছে। তার ব্যাপারে দোয়া করতে আমি অপারগ। তুমিই তার বিষয়ে ফায়সালা নেবে। আমি তার সাঙ্গোপাঙ্গদের ধ্বংসের দোয়া করছি। তুমি তোমার নবী ও দ্বীনের শত্রুদের ধ্বংস করে দাও।’ সাহসী এই দোয়া শুধু ওই খতিবেরই নয়, এদেশের চার লক্ষাধিক মসজিদের ইমাম-খতিবের। সময় এসেছে, চিহ্নিত ওই চক্রটির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। দ্বীনদার নামাজি ও সাহসী মুসলমানদেরই এ দায়িত্ব পালন করতে হবে। মসজিদের ব্যবস্থাপনার জন্য গঠিত কমিটিতে অনেক রকম অযোগ্য লোকই অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। কিন্তু কোনো ধর্মদ্রোহী কিংবা ধর্মদ্রোহীর প্রতি সমর্থনকারীর কোনো জায়গা সেই কমিটিতে হতে পারে না। এটা অসম্ভব। সবারই সোচ্চার হওয়া উচিত। সক্রিয় হওয়া উচিত। হ
লেখক : তরুণ আলেম, সাংবাদিক
কলাবাগান লেক সার্কাস মসজিদের ইমাম মাওলানা মুনিরুল ইসলাম। মহব্বতে রাসুলের (সা.) বয়ান করতে গিয়ে প্রসঙ্গক্রমে ‘নিজের আপনজন এমনকি প্রাণের চেয়েও ভালোবাসতে হবে নবীকে’ হাদিসটি শুনিয়েছিলেন। সহিহ হাদিস শুনেই তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন একটি বিশেষ দলের নেতা ওই মসজিদের সেক্রেটারি। একপর্যায়ে এলাকার বেনামাজি গুণ্ডা-পাণ্ডাদের নিয়ে ইমাম সাহেবকে হুমকি দিলেন তিনি। নামাজ পড়ানো থেকে বিরত থাকতে বললেন। পুলিশে দেয়ার প্রস্তুতিও নিলেন। একপর্যায়ে ইমাম সাহেব নিজের সম্মান নিয়ে অব্যাহতি দিয়ে চলে এলেন।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি মসজিদের ইমাম মাওলানা কামরুল হাসান। ঈমান ও নাস্তিকতা বিষয়ে বয়ান করায় একটি বিশেষ দলের অনুগত মসজিদ কমিটি তাকে অপদস্থ করে তাড়িয়ে দেয়। পুরান ঢাকার ওয়ারিতে একই ঘটনা ঘটে। উত্তরার খামারপাড়ার একটি মসজিদের ইমাম সাহেব রাসুল সম্পর্কে কটূক্তির প্রতিবাদে বয়ান করতে গিয়ে মসজিদেই অপদস্থ হলেন। রাজধানীর মিরপুর-৬ নম্বর মাদরাসা বন্ধ করে দেয়া হয় ১০ নম্বরের গোলচত্বরের তথাকথিত ‘গণজাগরণ মঞ্চে’ গিয়ে একাত্মতা ঘোষণা না করায়। মিরপুর-১৪ নম্বরের খাদেমুল ইসলাম মাদরাসার প্রিন্সিপালকে অপদস্থ করা হয় ‘গণজাগরণ মঞ্চে’ গিয়ে স্বঘোষিত নাস্তিকদের আন্দোলনের পক্ষে বক্তব্য না দেয়ায়।
মাত্র কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হলো এখানে। এছাড়াও রাজধানীর প্রায় শ’খানেক মসজিদের ইমামের চাকরি চলে গেছে প্রিয় নবীজীর (সা.) শানে কথা বলতে গিয়ে। ইসলামের প্রকাশ্য শত্রুদের বিরুদ্ধে কথা বলাই ছিল তাদের ‘অপরাধ’। রাজধানীর বাইরেও বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো আলেমের চাকরিচ্যুতি ও অপদস্থতার খবর পাওয়া গেছে। সত্য কথা বলায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ওয়াজ মাহফিলে বক্তাদের অপদস্থ করেছে একটি বিশেষ চক্রের গুণ্ডাপাণ্ডারা।
এমনটা হওয়ার তো কথা ছিল না। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশ বলে গর্ব করি আমরা। অথচ আমাদের প্রধান উপাসনালয় মসজিদগুলোও আজ নিরাপদ নয় ধর্মদ্রোহীদের থাবা থেকে। আমার প্রিয় নবীকে (সা.) নিয়ে যে কুলাঙ্গার কটূক্তি করেছে তার মারা যাওয়ার পর কেন দোয়া করতে হবে! একজন নাস্তিকের জন্য দোয়া করার অধিকার তো আমার ইসলাম দেয়নি। জীবদ্দশায় যে ঈমান-ইসলাম-নবী সম্পর্কে কটূক্তি করেছে তার জন্য দোয়া তো দূরের কথা পবিত্র মসজিদে কোনো মুসলমান নামটিও উচ্চারণ করতে পারে না। তার নামের সঙ্গে ইসলামী পরিভাষার ‘শহীদ’ শব্দটি যোগ করা অন্যায়।
নাস্তিক ও খোদাদ্রোহীদের পক্ষে যারা দাঁড়ায় তারা মুসলমান হতে পারে না। অথচ বর্তমানে মসজিদের মতো পবিত্র স্থানগুলো তারাই দখল করে নিয়েছে। একটি বিশেষ গোষ্ঠী ধর্মের অপব্যবহার রোধে মুখে ফেনা তুলে ফেললেও তারাই ধর্মকে নিয়ে খেলছে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বেশিরভাগ মসজিদের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নিয়ে গেছে। তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলের অনুগত মুসলিম নামধারী এই চক্রটি কৌশলে মসজিদেও ধর্মহীনতার বিষবাষ্প ঢুকিয়ে দিতে চাচ্ছে। সমাজ যাদেরকে ধর্মীয় নেতা হিসেবে মানে, শ্রদ্ধা করে; সেই ইমাম-খতিবদের ওপর চড়াও হচ্ছে এই চক্রটি। যে মিম্বর থেকে ধ্বনিত হবে ইসলামের সঠিক দিকনির্দেশনা সেই মিম্বরের কণ্ঠ রোধ করে দিতে চায় তারা।
চাকরি হারানো ও অপদস্থতার ভয়ে অনেক ইমাম-খতিবই মুখ খোলেন না। কিন্তু সাহস করে সত্যটি বলে ফেললে এর বিজয় সুনিশ্চিত। সম্প্রতি এমনই একটি সাহসী নজির স্থাপন করলেন রাজধানীর কাজিপাড়া পূর্ব মণিপুর মসজিদের খতিব। তরুণ ও সাহসী এই আলেমকে এক মৃত নাস্তিকের জন্য দোয়া করতে একটি চিরকুট দেয়া হয়েছিল। তিনি দোয়া করলেন, ‘হে আল্লাহ! আমাকে এক নাস্তিকের জন্য দোয়া করতে বলা হয়েছে। তার ব্যাপারে দোয়া করতে আমি অপারগ। তুমিই তার বিষয়ে ফায়সালা নেবে। আমি তার সাঙ্গোপাঙ্গদের ধ্বংসের দোয়া করছি। তুমি তোমার নবী ও দ্বীনের শত্রুদের ধ্বংস করে দাও।’ সাহসী এই দোয়া শুধু ওই খতিবেরই নয়, এদেশের চার লক্ষাধিক মসজিদের ইমাম-খতিবের। সময় এসেছে, চিহ্নিত ওই চক্রটির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। দ্বীনদার নামাজি ও সাহসী মুসলমানদেরই এ দায়িত্ব পালন করতে হবে। মসজিদের ব্যবস্থাপনার জন্য গঠিত কমিটিতে অনেক রকম অযোগ্য লোকই অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। কিন্তু কোনো ধর্মদ্রোহী কিংবা ধর্মদ্রোহীর প্রতি সমর্থনকারীর কোনো জায়গা সেই কমিটিতে হতে পারে না। এটা অসম্ভব। সবারই সোচ্চার হওয়া উচিত। সক্রিয় হওয়া উচিত। হ
লেখক : তরুণ আলেম, সাংবাদিক

সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া









