ইসলামের নীতি : দায়িত্বশীলদের জবাব দিতে হবে
মুহাম্মদ আমিনুল হক
| পরের সংবাদ» |
কোনো কিছুর দায়িত্ব পালন করা মহান আমানত। যিনি এই দায়িত্ব আঞ্জাম দেন তাকে আমরা দায়িত্বশীল বলি। ইসলামে দায়িত্বশীলতার গণ্ডি অনেক বড়। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি অংশই কারও না কারও অধীন করে দেয়া হয়েছে। কাল কিয়ামতের দিন প্রত্যেক ব্যক্তিকেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। কাউকে একচুল পরিমাণও ছাড় দেয়া হবে না। সমাজের ক্ষুদ্র ব্যক্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল পর্যন্ত সব পর্যায়ের সব দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনকারীকে কিয়ামতের দিন আল্লাহতায়ালা তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। এ সম্পর্কে আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তাদের অধীনস্থদের সম্পর্কে (কিয়ামতের দিন) জিজ্ঞাসিত হবেন। অতএব নেতাও দায়িত্বশীল এবং তিনি তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। স্বামী দায়িত্বশীল তার পরিবারের ব্যাপারে এবং তিনি তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। স্ত্রী দায়িত্বশীল তার স্বামীর ঘর-বাড়ির এবং তিনি তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন।.....অতএব তোমরা সকলেই দায়িত্বশীল এবং তোমরা প্রত্যেকেই কিয়ামতের দিন তোমাদের অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে’ (বুখারি ও মুসলিম)।
আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর এই হাদিস সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তিকেই অন্তর্ভুক্ত করেছে। আমরা জানি, আমরা সবাই কারও না কারোর অধীনস্থ হয়ে এই সমাজে বসবাস করছি। একটি রাষ্ট্রের যেমন দায়িত্বশীল আছে; যাকে আমরা প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতি বলি, ঠিক তেমনি একটি পরিবারেরও দায়িত্বশীল আছে যার অধীনে আমরা ঘর-বাড়িতে থাকি; যাকে আমরা পিতা বলি কখনও, আবার স্বামী বলি কিংবা ভাই বলি কখনও, অর্থাত্ যার অধীনে পরিবারটি পরিচালিত হয় তিনিই এই পরিবারের রাষ্ট্রপতি বা পরিচালক। এমনিভাবে মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপি, মন্ত্রী, সচিব, ব্যাংকার, শিক্ষক, ছাত্র, শ্রমিক, ইমাম, মুয়াজ্জিন, যিনি কোনো কিছুর দায়িত্ব পালন করবেন তিনিই আল্লাহর মুখোমুখি হবেন কাল কিয়ামতে। আল্লাহর কাছে তিনি তার অধীনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবেন। তিনি যদি তার অধীনস্থদের কল্যাণে কাজ করেন এবং অধীনস্থদের যথাযথ অধিকার প্রদান করেন আল্লাহ তাকে উত্তম পুরস্কার প্রদান করবেন। আর তিনি যদি অধীনস্থদের অধিকার নষ্ট করেন এবং তাদের সঙ্গে কোনো প্রকার অন্যায় আচরণ করেন তাহলে আল্লাহ তাকে কঠিনভাবে পাকড়াও করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।
মহানবী (সা.) বলেন, ‘কেউ যদি প্রজাদের শাসনভার পায় আর তিনি প্রজাদের ব্যাপারে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করে ইন্তেকাল করেন আল্লাহতায়ালা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন’ (বুখারি ও মুসলিম)।
জীবন চলার পথে আমরা অনেকেই অনেক কিছুর দায়িত্ব পালন করে থাকি। কিন্তু আমরা দায়িত্ব পেয়েই আল্লাহর নাম ভুলে যাই। ভুলে যাই অধীনস্থদের অধিকারের কথা, আমানতদারিতার কথা। ইচ্ছেমত অধিকার চর্চা করি। অন্যায়ভাবে অন্যের হক নষ্ট করার চেষ্টা করি। আমরা হয়তো ভুলে যাই, রোজ কিয়ামতে আল্লাহতায়ালার হিসাবের কথা। আমি কি একবারও ভেবেছি, যে আল্লাহ আমাকে বড় কর্মকর্তা বানালেন, অন্যকে হুকুম দেয়ার ক্ষমতা দিলেন সেই আল্লাহ যদি আমাকে অন্যের অধীন করে দিতেন কিংবা সম্পদশালী না করে যদি ভিক্ষুক বানাতেন? অনেকে হয়তো ভাবেন, আমাকে আমার বস হুকুম করেছেন বিধায় আমি অন্যায় হলেও কাজটি করেছি। না, এটি ঠিক নয়। আপনি চেষ্টা করলে আপনার বসের অন্যায় হুকুম তামিল না করেও পারতেন এবং অধীনস্থকে রক্ষা করতে পারতেন।
আমাদের দায়িত্বের ব্যাপারে যদি আমরা ইসলামের দিকনির্দেশনা এবং আল্লাহকে ভয় করতে পারতাম তাহলে আমাদের সমাজে যে সীমাহীন হানাহানি, রক্তপাত, অন্যায়-অবিচার, দুর্নীতি তা কখনও এতটা গভীরে বদ্ধমূল হতে পারত না। আমরা দুনিয়ার এই ক্ষুদ্র জীবনকেই অনেক বড় এবং চূড়ান্ত ভেবে ফেলেছি। এ কারণেই আমরা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে অন্যের ওপর জুলুম করছি, অকাতরে মানুষ মারছি, লুট করছি অন্যের সম্পদ কিংবা ইজ্জত-সম্মান। অথচ আমাদের মহান প্রভু আমাদের এ সম্পর্কে বহুবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন যে, দুনিয়ার জীবন অতি ক্ষুদ্র, আখিরাতের জীবন স্থায়ী ও উত্তম। তিনি কোরআনের সুরা আল-আ’লাতে উল্লেখ করেন, ‘বরং তোমরা দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দাও অথচ আখিরাত হচ্ছে উত্তম এবং চিরস্থায়ী আবাসস্থল’।
যার আল্লাহর ওপর একবিন্দু বিশ্বাস আছে সে কখনো অন্যের ওপর অন্যায় আচরণ করতে পারে না। যিনি আখিরাতে বিশ্বাস করেন সে কীভাবে অধীনস্থদের অধিকার কেড়ে নিতে পারে? অতএব আসুন, আমরা আমাদের অধীনস্থদের ব্যাপারে সচেতন হই। আমানতদারিতার সঙ্গে যেন আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনে ব্রতী হই। কাল কিয়ামতে আল্লাহতায়ালা সাত ব্যক্তিকে তার আরশের ছায়ায় স্থান দেবেন, যেদিন ওই ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না। দুনিয়ায় ন্যায়পরায়ণ শাসনকর্তা হয়ে যেন আখিরাতে আল্লাহর আরশের তলে আশ্রয় গ্রহণ করতে পারি সে চেষ্টাই করা উচিত আমাদের। আমীন!
লেখক : বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কলামিস্ট
আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর এই হাদিস সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তিকেই অন্তর্ভুক্ত করেছে। আমরা জানি, আমরা সবাই কারও না কারোর অধীনস্থ হয়ে এই সমাজে বসবাস করছি। একটি রাষ্ট্রের যেমন দায়িত্বশীল আছে; যাকে আমরা প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতি বলি, ঠিক তেমনি একটি পরিবারেরও দায়িত্বশীল আছে যার অধীনে আমরা ঘর-বাড়িতে থাকি; যাকে আমরা পিতা বলি কখনও, আবার স্বামী বলি কিংবা ভাই বলি কখনও, অর্থাত্ যার অধীনে পরিবারটি পরিচালিত হয় তিনিই এই পরিবারের রাষ্ট্রপতি বা পরিচালক। এমনিভাবে মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপি, মন্ত্রী, সচিব, ব্যাংকার, শিক্ষক, ছাত্র, শ্রমিক, ইমাম, মুয়াজ্জিন, যিনি কোনো কিছুর দায়িত্ব পালন করবেন তিনিই আল্লাহর মুখোমুখি হবেন কাল কিয়ামতে। আল্লাহর কাছে তিনি তার অধীনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবেন। তিনি যদি তার অধীনস্থদের কল্যাণে কাজ করেন এবং অধীনস্থদের যথাযথ অধিকার প্রদান করেন আল্লাহ তাকে উত্তম পুরস্কার প্রদান করবেন। আর তিনি যদি অধীনস্থদের অধিকার নষ্ট করেন এবং তাদের সঙ্গে কোনো প্রকার অন্যায় আচরণ করেন তাহলে আল্লাহ তাকে কঠিনভাবে পাকড়াও করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।
মহানবী (সা.) বলেন, ‘কেউ যদি প্রজাদের শাসনভার পায় আর তিনি প্রজাদের ব্যাপারে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করে ইন্তেকাল করেন আল্লাহতায়ালা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন’ (বুখারি ও মুসলিম)।
জীবন চলার পথে আমরা অনেকেই অনেক কিছুর দায়িত্ব পালন করে থাকি। কিন্তু আমরা দায়িত্ব পেয়েই আল্লাহর নাম ভুলে যাই। ভুলে যাই অধীনস্থদের অধিকারের কথা, আমানতদারিতার কথা। ইচ্ছেমত অধিকার চর্চা করি। অন্যায়ভাবে অন্যের হক নষ্ট করার চেষ্টা করি। আমরা হয়তো ভুলে যাই, রোজ কিয়ামতে আল্লাহতায়ালার হিসাবের কথা। আমি কি একবারও ভেবেছি, যে আল্লাহ আমাকে বড় কর্মকর্তা বানালেন, অন্যকে হুকুম দেয়ার ক্ষমতা দিলেন সেই আল্লাহ যদি আমাকে অন্যের অধীন করে দিতেন কিংবা সম্পদশালী না করে যদি ভিক্ষুক বানাতেন? অনেকে হয়তো ভাবেন, আমাকে আমার বস হুকুম করেছেন বিধায় আমি অন্যায় হলেও কাজটি করেছি। না, এটি ঠিক নয়। আপনি চেষ্টা করলে আপনার বসের অন্যায় হুকুম তামিল না করেও পারতেন এবং অধীনস্থকে রক্ষা করতে পারতেন।
আমাদের দায়িত্বের ব্যাপারে যদি আমরা ইসলামের দিকনির্দেশনা এবং আল্লাহকে ভয় করতে পারতাম তাহলে আমাদের সমাজে যে সীমাহীন হানাহানি, রক্তপাত, অন্যায়-অবিচার, দুর্নীতি তা কখনও এতটা গভীরে বদ্ধমূল হতে পারত না। আমরা দুনিয়ার এই ক্ষুদ্র জীবনকেই অনেক বড় এবং চূড়ান্ত ভেবে ফেলেছি। এ কারণেই আমরা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে অন্যের ওপর জুলুম করছি, অকাতরে মানুষ মারছি, লুট করছি অন্যের সম্পদ কিংবা ইজ্জত-সম্মান। অথচ আমাদের মহান প্রভু আমাদের এ সম্পর্কে বহুবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন যে, দুনিয়ার জীবন অতি ক্ষুদ্র, আখিরাতের জীবন স্থায়ী ও উত্তম। তিনি কোরআনের সুরা আল-আ’লাতে উল্লেখ করেন, ‘বরং তোমরা দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দাও অথচ আখিরাত হচ্ছে উত্তম এবং চিরস্থায়ী আবাসস্থল’।
যার আল্লাহর ওপর একবিন্দু বিশ্বাস আছে সে কখনো অন্যের ওপর অন্যায় আচরণ করতে পারে না। যিনি আখিরাতে বিশ্বাস করেন সে কীভাবে অধীনস্থদের অধিকার কেড়ে নিতে পারে? অতএব আসুন, আমরা আমাদের অধীনস্থদের ব্যাপারে সচেতন হই। আমানতদারিতার সঙ্গে যেন আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনে ব্রতী হই। কাল কিয়ামতে আল্লাহতায়ালা সাত ব্যক্তিকে তার আরশের ছায়ায় স্থান দেবেন, যেদিন ওই ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না। দুনিয়ায় ন্যায়পরায়ণ শাসনকর্তা হয়ে যেন আখিরাতে আল্লাহর আরশের তলে আশ্রয় গ্রহণ করতে পারি সে চেষ্টাই করা উচিত আমাদের। আমীন!
লেখক : বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কলামিস্ট


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া










