ভুল করেছে পেট্রোবাংলা : ১৩ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসি থেকে রওনা হই
স্টাফ রিপোর্টার
প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুত্ ও জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম বলেছেন, মার্কিন কোম্পানি শেভরনের কাছ থেকে তিনি কোনো ঘুষ গ্রহণ কিংবা লেনদেন করেননি। একটি বেনামি চিঠির সূত্র ধরে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্যই ভিত্তিহীন সংবাদ ছাপা হয়েছে। ওই চিঠির সূত্র ধরে সরকারের তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, পেট্রোবাংলা এ বিষয়ে ভুল করেছে। পেট্রোবাংলার ভুলের কারণেই অবস্থা এখানে এসে দাঁড়িয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। দৈনিক আমার দেশ-এ তাকে ও প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ঘুষ নেয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তৌফিক-ই-এলাহী বলেন, আমি অবাক হলাম। একটি বেনামি চিঠির ওপর এত বড় করে নিউজ ছাপা হওয়ার কী আছে। তিনি ওই নিউজের একটি তথ্য খণ্ডন করে বলেন, আমি প্রবাসী বাংলাদেশী (এনআরবি) সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলাম। আমি ১৩ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসি থেকে কাতার এয়ারওয়েজে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছি। ১৫ অক্টোবর ঢাকা পৌঁছেছি।
উপদেষ্টা বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ করছি ওই নিউজের ব্যাপারে। প্রতিবেদক যা লিখেছেন, তা প্রমাণ করতে হবে। বাংলাদেশে কোর্ট আছে। সেখানে প্রমাণ হবে। সরকার অনেক চেষ্টা করছে ভালো কিছু কাজ করার। এজন্য সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এসব করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ছেলেকে এর মধ্যে জড়ানো হয়েছে। এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য করা হয়েছে। আমরা যে উদ্যোগ নিচ্ছি, তাতে ঈর্ষান্বিত হয়ে এসব করা হচ্ছে। নিউজ সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, আবু সিদ্দিকী নামে কেউ আছে কিনা তা জানতে হবে। বেনামি চিঠি নিয়ে এমন একটি নিউজ করা যায় না।
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এনামুল হক, জ্বালানি বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মহসীন, বিদ্যুত্ বিভাগের সচিব আবুল কালাম আজাদ ও বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান এএসএম আলমগীর কবির উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তিনি লন্ডনে অনুষ্ঠিত বিদ্যুত্-গ্যাস খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা ‘রোড শো’ বিষয়ে বক্তব্য দেন। এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, সেখানে ৭৮টি দেশি-বিদেশি কোম্পানি অংশ নেয়। এর মধ্যে দেশি প্রতিষ্ঠান ২২টি। বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩ হাজার ৯শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ কেন্দ্র এবং একটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করার প্রকল্প তুলে ধরা হয়েছে। তারা এসব প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টার প্রশ্নোত্তরের পূর্ণ বিবরণ তুলে ধরা হলো :
প্রশ্ন : আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট প্রসঙ্গে আপনার মন্তব্য কি?
তৌফিক এলাহী : একটি উড়ো চিঠির ওপর ভিত্তি করে চরিত্র হননের চেষ্টা করা হয়েছে। এগুলো অপসাংবাদিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। কিছু বিপথগামী মিডিয়া রয়েছে যেগুলো এগুলো করছে। রাজনৈতিকভাবে আমাদের হেয় করার জন্য এগুলো করা হচ্ছে। আমার দেশ কর্তৃপক্ষকে এ অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে। খুব সহজে এ বিষয়টি ছাড় দেয়া হবে না।
প্রশ্ন : উড়ো চিঠির সূত্র ধরে আপনারা তদন্ত করতে বলেছেন কেন?
তৌফিক এলাহী : যে ব্যক্তির স্বাক্ষরে চিঠি দেয়া হয়েছে, তা সঠিক কিনা আমরা তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি।
প্রশ্ন : পেট্রোবাংলা আপনাদের নির্দেশের জবাবে বলেছে যে, ‘বিষয়টির সঙ্গে সরকারের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ জড়িত এবং বিষয়টি স্পর্শকাতর বিধায় তদন্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগেই তদন্ত হোক। এ ব্যাপারে পেট্রোবাংলা সব ধরনের সহযোগিতা করবে’। পেট্রোবাংলা কেন এ কথা লিখল?
তৌফিক এলাহী : পেট্রোবাংলা তো এখানেই ভুল করেছে।
প্রশ্ন : পেট্রোবাংলা এসব কথা লেখার কারণে এর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন কি?
তৌফিক এলাহী : পরে দেখা যাবে।
প্রশ্ন : বেনামি চিঠির ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় অভিযোগ তদন্ত করতে বলেছে। এর ভিত্তিতে সংবাদ পরিবেশন করায় পত্রিকার অপরাধ হবে কেন?
তৌফিক এলাহী : সংবাদ মাধ্যমের একটি দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকে। রিপোর্ট প্রকাশের আগে আমার সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল।
প্রশ্ন : আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টের কোন অংশটি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে আপনার কাছে মনে হয়েছে?
তৌফিক এলাহী : আমি ১৪ অক্টোবর আমেরিকার টেক্সাসে জয়কে ঘুষের অর্থ লেনদেন করেছি বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। আমি ১৩ অক্টোবর আমেরিকা ত্যাগ করেছি।
প্রশ্ন : ১৩ অক্টোবরের আগে আপনি জয়কে ঘুষ দিয়েছেন কিনা?
তৌফিক এলাহী : জয় একটি বাচ্চা ছেলে। তাকে নিয়ে এ ধরনের বানোয়াট অভিযোগে আমি সত্যিকার অর্থেই মর্মাহত হয়েছি।
প্রশ্ন : ওই সময়ে আপনি আমেরিকা কি কারণে গিয়েছিলেন?
তৌফিক এলাহী : প্রবাসী বাংলাদেশীদের একটি আমন্ত্রণে আমি আমেরিকা গিয়েছিলাম। প্রবাসীদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ছাড়া আমি আর কিছুই করিনি।
প্রশ্ন : শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা নাইকো দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হয়ে আপনি জেল খেটেছেন। এখন আবার অনুরূপ একটি অভিযোগ আপনার বিরুদ্ধে এসেছে। এটাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
তৌফিক এলাহী : এগুলো রাজনৈতিকভাবে চরিত্র হননের চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন পছন্দ করে না, তারাই এগুলো করছে। এতে আমরা মোটেও বিচলিত নই।
প্রশ্ন : আমার দেশ পত্রিকায় আপনার বিরুদ্ধে বিনা টেন্ডারে ৩৭০ কোটি টাকার কাজ শেভরনকে দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। বিনা টেন্ডারে এ বিপুল পরিমাণ অর্থের কাজ আপনি কিভাবে দিতে পারলেন?
তৌফিক এলাহী : আমার দেশ পত্রিকার রিপোর্টের প্রতিবাদে আমরা এর ব্যাখ্যা দিয়েছি।
প্রশ্ন : তাহলে আমরা ধরে নেব যে, সরকার বিনা টেন্ডারে ৩৭০ কোটি টাকার কাজ দিয়েছে।
তৌফিক এলাহী : ইতিপূর্বে এ কাজের জন্য তিনবার টেন্ডার আহ্বান করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তাছাড়া কম্প্রেসার স্থাপন করাটা অত্যন্ত জরুরি ছিল। কেননা, আমরা দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। কম্প্রেসার না হলে ওইসব অঞ্চলে গ্যাস সাপ্লাই দেয়া সম্ভব হবে না। পিএসসির শর্ত মেনেই শেভরনকে ওই কাজ দেয়া হয়েছে।
প্রশ্ন : প্রধানমন্ত্রী এ সংক্রান্ত ফাইলে স্বাক্ষরের ১ মাস ১০ দিন পর একজন পরিচালক এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং লিখিতভাবে আপত্তি করেছেন। আপনি এ বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?
তৌফিক এলাহী : এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করুন।
প্রশ্ন : একটি পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশের পর আপনি সংক্ষুব্ধ হয়ে থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। কিন্তু আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে মন্ত্রীসহ ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারের ওপর হামলা করা হয়েছে। এগুলো সঠিক হচ্ছে কিনা?
তৌফিক এলাহী : বিষয়গুলো রাজনৈতিক।
প্রশ্ন : আপনি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়গুলোকে কিভাবে দেখছেন?
তৌফিক এলাহী : এগুলো সঠিক হচ্ছে না।
প্রশ্ন : আপনি আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করতে যাবেন কিনা?
তৌফিক এলাহী : আগে দেখব যে, আমার মান আছে কিনা। তারপর চিন্তাভাবনা করে মামলা করতে যাব।
উপদেষ্টা বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ করছি ওই নিউজের ব্যাপারে। প্রতিবেদক যা লিখেছেন, তা প্রমাণ করতে হবে। বাংলাদেশে কোর্ট আছে। সেখানে প্রমাণ হবে। সরকার অনেক চেষ্টা করছে ভালো কিছু কাজ করার। এজন্য সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এসব করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ছেলেকে এর মধ্যে জড়ানো হয়েছে। এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য করা হয়েছে। আমরা যে উদ্যোগ নিচ্ছি, তাতে ঈর্ষান্বিত হয়ে এসব করা হচ্ছে। নিউজ সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, আবু সিদ্দিকী নামে কেউ আছে কিনা তা জানতে হবে। বেনামি চিঠি নিয়ে এমন একটি নিউজ করা যায় না।
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এনামুল হক, জ্বালানি বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মহসীন, বিদ্যুত্ বিভাগের সচিব আবুল কালাম আজাদ ও বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান এএসএম আলমগীর কবির উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তিনি লন্ডনে অনুষ্ঠিত বিদ্যুত্-গ্যাস খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা ‘রোড শো’ বিষয়ে বক্তব্য দেন। এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, সেখানে ৭৮টি দেশি-বিদেশি কোম্পানি অংশ নেয়। এর মধ্যে দেশি প্রতিষ্ঠান ২২টি। বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩ হাজার ৯শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ কেন্দ্র এবং একটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করার প্রকল্প তুলে ধরা হয়েছে। তারা এসব প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টার প্রশ্নোত্তরের পূর্ণ বিবরণ তুলে ধরা হলো :
প্রশ্ন : আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট প্রসঙ্গে আপনার মন্তব্য কি?
তৌফিক এলাহী : একটি উড়ো চিঠির ওপর ভিত্তি করে চরিত্র হননের চেষ্টা করা হয়েছে। এগুলো অপসাংবাদিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। কিছু বিপথগামী মিডিয়া রয়েছে যেগুলো এগুলো করছে। রাজনৈতিকভাবে আমাদের হেয় করার জন্য এগুলো করা হচ্ছে। আমার দেশ কর্তৃপক্ষকে এ অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে। খুব সহজে এ বিষয়টি ছাড় দেয়া হবে না।
প্রশ্ন : উড়ো চিঠির সূত্র ধরে আপনারা তদন্ত করতে বলেছেন কেন?
তৌফিক এলাহী : যে ব্যক্তির স্বাক্ষরে চিঠি দেয়া হয়েছে, তা সঠিক কিনা আমরা তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি।
প্রশ্ন : পেট্রোবাংলা আপনাদের নির্দেশের জবাবে বলেছে যে, ‘বিষয়টির সঙ্গে সরকারের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ জড়িত এবং বিষয়টি স্পর্শকাতর বিধায় তদন্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগেই তদন্ত হোক। এ ব্যাপারে পেট্রোবাংলা সব ধরনের সহযোগিতা করবে’। পেট্রোবাংলা কেন এ কথা লিখল?
তৌফিক এলাহী : পেট্রোবাংলা তো এখানেই ভুল করেছে।
প্রশ্ন : পেট্রোবাংলা এসব কথা লেখার কারণে এর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন কি?
তৌফিক এলাহী : পরে দেখা যাবে।
প্রশ্ন : বেনামি চিঠির ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় অভিযোগ তদন্ত করতে বলেছে। এর ভিত্তিতে সংবাদ পরিবেশন করায় পত্রিকার অপরাধ হবে কেন?
তৌফিক এলাহী : সংবাদ মাধ্যমের একটি দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকে। রিপোর্ট প্রকাশের আগে আমার সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল।
প্রশ্ন : আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টের কোন অংশটি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে আপনার কাছে মনে হয়েছে?
তৌফিক এলাহী : আমি ১৪ অক্টোবর আমেরিকার টেক্সাসে জয়কে ঘুষের অর্থ লেনদেন করেছি বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। আমি ১৩ অক্টোবর আমেরিকা ত্যাগ করেছি।
প্রশ্ন : ১৩ অক্টোবরের আগে আপনি জয়কে ঘুষ দিয়েছেন কিনা?
তৌফিক এলাহী : জয় একটি বাচ্চা ছেলে। তাকে নিয়ে এ ধরনের বানোয়াট অভিযোগে আমি সত্যিকার অর্থেই মর্মাহত হয়েছি।
প্রশ্ন : ওই সময়ে আপনি আমেরিকা কি কারণে গিয়েছিলেন?
তৌফিক এলাহী : প্রবাসী বাংলাদেশীদের একটি আমন্ত্রণে আমি আমেরিকা গিয়েছিলাম। প্রবাসীদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ছাড়া আমি আর কিছুই করিনি।
প্রশ্ন : শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা নাইকো দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হয়ে আপনি জেল খেটেছেন। এখন আবার অনুরূপ একটি অভিযোগ আপনার বিরুদ্ধে এসেছে। এটাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
তৌফিক এলাহী : এগুলো রাজনৈতিকভাবে চরিত্র হননের চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন পছন্দ করে না, তারাই এগুলো করছে। এতে আমরা মোটেও বিচলিত নই।
প্রশ্ন : আমার দেশ পত্রিকায় আপনার বিরুদ্ধে বিনা টেন্ডারে ৩৭০ কোটি টাকার কাজ শেভরনকে দেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। বিনা টেন্ডারে এ বিপুল পরিমাণ অর্থের কাজ আপনি কিভাবে দিতে পারলেন?
তৌফিক এলাহী : আমার দেশ পত্রিকার রিপোর্টের প্রতিবাদে আমরা এর ব্যাখ্যা দিয়েছি।
প্রশ্ন : তাহলে আমরা ধরে নেব যে, সরকার বিনা টেন্ডারে ৩৭০ কোটি টাকার কাজ দিয়েছে।
তৌফিক এলাহী : ইতিপূর্বে এ কাজের জন্য তিনবার টেন্ডার আহ্বান করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তাছাড়া কম্প্রেসার স্থাপন করাটা অত্যন্ত জরুরি ছিল। কেননা, আমরা দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। কম্প্রেসার না হলে ওইসব অঞ্চলে গ্যাস সাপ্লাই দেয়া সম্ভব হবে না। পিএসসির শর্ত মেনেই শেভরনকে ওই কাজ দেয়া হয়েছে।
প্রশ্ন : প্রধানমন্ত্রী এ সংক্রান্ত ফাইলে স্বাক্ষরের ১ মাস ১০ দিন পর একজন পরিচালক এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং লিখিতভাবে আপত্তি করেছেন। আপনি এ বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?
তৌফিক এলাহী : এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করুন।
প্রশ্ন : একটি পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশের পর আপনি সংক্ষুব্ধ হয়ে থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। কিন্তু আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে মন্ত্রীসহ ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারের ওপর হামলা করা হয়েছে। এগুলো সঠিক হচ্ছে কিনা?
তৌফিক এলাহী : বিষয়গুলো রাজনৈতিক।
প্রশ্ন : আপনি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়গুলোকে কিভাবে দেখছেন?
তৌফিক এলাহী : এগুলো সঠিক হচ্ছে না।
প্রশ্ন : আপনি আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করতে যাবেন কিনা?
তৌফিক এলাহী : আগে দেখব যে, আমার মান আছে কিনা। তারপর চিন্তাভাবনা করে মামলা করতে যাব।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


