বাঁশখালীতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বন্যহাতি
মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহ ছানুবী, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে হাতির পাল বেপরোয়া হয়ে ওঠায় ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে লোকজন। দু’বছরে বন্যহাতির আক্রমণে মারা গেছে ৪০ জন, আহত হয়েছে দুই শতাধিক। নষ্ট হয়েছে পাহাড়ি এলাকার লাখ লাখ টাকার ফসল। প্রতিদিন কোনো না কোনো এলাকায় হাতির আক্রমণের ঘটনা ঘটছে। পাহাড়গুলো বৃক্ষশূন্য হয়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় খাবার মেটাতে না পেরে হাতির পাল দলে দলে খাবারের জন্য ছুটে আসছে লোকালয়ে। প্রায় প্রতি রাতেই ১৫-১৬টি বন্যহাতির পাল আকস্মিক লোকালয়ে ছুটে আসে। এ ব্যাপারে রেঞ্জ কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, পাহাড়ে খাবার না পেয়ে হাতিগুলো লোকালয়ে ছুটে আসছে। হাতির আক্রমণ থেকে লোকজন যাতে রক্ষা পায়, সে জন্য স্ব স্ব বিট কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে বন বিভাগের লোকজন পাহারা বসিয়েছে। পাহাড়ি এলাকা পূর্ব বাঁশখালী, পুইছড়ী, নাপোড়া, জঙ্গল নাপোড়া, চাম্বল, পূর্ব চাম্বল, শীলকূপ, পর্যটন এলাকা ইকোপার্ক, জঙ্গল জলদী, পাইরাং, পূর্ব চেচুরিয়া, জঙ্গল কালীপুর, পূর্ব গুনাগরী, কোকদণ্ডী, কাটা পাহাড়, পূর্ব সাধনপুর ও পুকুরিয়ায় বন্য হাতির দল বেপরোয়া হয়ে ওঠায় লোকজন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। গত বছরের ৬ অক্টোবর মধ্যরাতে কালীপুর ইউপির জঙ্গল গুনাগরীতে হাতির আক্রমণে মারা যান একই পরিবারের ৫ জন। এরা হলেন প্রতিমা নাথ (৪৫), বীণা নাথ (২৫), সবুজ নাথ (৩০), সিমু নাথ (৫) ও নয়ন নাথ (২)। এর দুই মাস পর পূর্ব চাম্বলে মারা যায় মেম্বার আনসার (৫৫), পরের দিন পুঁইছড়িতে মারা যায় সকিনা বেগম (২৫), গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর পূর্ব সাধনপুরে মারা যান দিলীপ (৫৫), ১৬ ডিসেম্বর পুকুরিয়ার চন্দ্র পুরে মারা যান নুরুল আমিন (২২), নূর মোহাম্মদ (২৫) ও নবী হোসেন (১৮)। ২৩ ডিসেম্বর পুঁইছড়িতে মারা যায় জাকের আহমদ (৪৫), ৩০ ডিসেম্বর সাধনপুর ও পুকুরিয়ায় মারা যান আক্কাস (৩৮) ও জেবর মুল্লুক (৩৫)। ৪ ফেব্রুয়ারি পেয়ারা বাগান দেখতে গিয়ে মারা যান মাত্র তিন দিন আগে সৌদি আরব থেকে দেশে আসা পূর্ব চেচুরিয়ার ছমুদুল হক (৩৮)। সর্বশেষ গত ১০ ডিসেম্বর মারা যান জঙ্গল জলদী গ্রামের মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে এজাহার মিয়া (৫৮)।
-
জাতীয়


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া


