বিজয় দিবসে আ’লীগ ছাত্রলীগ যুবলীগের প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপে সংঘর্ষ
ডেস্ক রিপোর্ট
গতকাল মহান বিজয় দিবস পালনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, মেহেরপুর, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে আ’লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আহত হয় অর্ধশতাধিক। সংঘর্ষের জের ধরে চুয়েট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সংঘর্ষকালে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া, গাংনী-চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
চুয়েট ও চবি প্রতিনিধি : বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষে আহত হয়েছে ৩৫ জন। কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ এবং গতকাল বিকাল ৫টার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়।
১৫ ডিসেম্বর বিকাল থেকে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে কে আগে শহীদ মিনারে ফুল দেবে এবং শহীদ মিনার দখলে রাখবে—এ নিয়ে বাদানুবাদ দেখা দেয়। এর জের ধরে রাত সাড়ে ১১টায় উভয় গ্রুপে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৩৫ নেতাকর্মী আহত হয়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৬ ডিসেম্বর বিকাল ৫টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় এবং সব ক্লাস ও পরীক্ষা জানুয়ারির ২ তারিখ পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৫ ডিসেম্বর সকাল থেকেই ছাত্রলীগ-সমর্থিত গণি-নূরউদ্দীন ও শাহীন-সুজন গ্রুপ বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনার দখল করে একে অপরকে প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিতে থাকে। বিকালের দিকে তাদের এ প্রস্তুতি ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত না হওয়ায় রাত ১২টায় দু’গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের প্রায় ৩৫ নেতাকর্মী আহত হয়। আহতদের চুয়েট মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয় এবং গুরুতর আহত ১৫ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আহতদের মধ্যে সুজন, সাজিদ, সুরজিত, সাঈদ, লুত্ফর ও আরিফের অবস্থা গুরুতর। পরে গণি-নূরউদ্দিন গ্রুপ সুজন- শাহীন গ্রুপকে হটিয়ে ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং ৪টি হলের ১৫/১৬টি রুম ও ৭/৮টি কম্পিউটার ভাংচুর করে। সংঘর্ষের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আয়োজিত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ড. শ্যামল কান্তি বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্েদশ দিয়েছে।
এদিকে চবি প্রতিনিধি জানান, বিজয় দিবসের ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকা ও ১নং সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রলীগ কর্মীদের সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে চবি ছাত্রলীগের (মেয়র গ্রুপ) দুটি গ্রুপ শহীদ মিনারে পৃথকভাবে ফুল দিতে যায়। এ সময় এক গ্রুপের নেতা নাসির উদ্দিন মিন্টু ফুল দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সময় অপর গ্রুপের রিয়েল, তারেক ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত ছাত্র জুয়েল তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় মিন্টু মারাত্মকভাবে আহত হন। তাকে প্রথমে চবি মেডিকেল সেন্টার ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার জের ধরে মিন্টুর অনুসারী এবং রিয়েল, তারেক ও জুয়েলের অনুসারীদের মধ্যে চবি ১নং সড়কে প্রায় ২ ঘণ্টা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। পরে চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. আবু ইউসুফের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
মেহেরপুর প্রতিনিধি : মহান বিজয় দিবসে গাংনী আ’লীগের বিবদমান দু’গ্রুপের একই স্থানে অনুষ্ঠান করাকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে আহত হয়েছে গাংনী পৌরসভার কর্মচারীসহ ২০ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র্যাব-পুলিশ লাঠিচার্জ করে। আহতদের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় কয়েকটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন যুবলীগ নেতা মহিবুল, গাংনী পৌরসভা কর্মী মাহাতাবউদ্দিন, যুবলীগ নেতা আনিসুজ্জামান, ষোলটাকা ইউনিয়ন আ’লীগ সেক্রেটারি একরামুল হক, পথচারী রবিউল ইসলাম, আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য আশরাফুল ইসলাম, নুরুল, ফারুক ও আকাশ, হাজী মহসিন, পারভেজ, সেলিম, বাবু, কেরু, মোফাজ্জেল, আলমগীর, আনিছুর, রবি, ইউনুছ ও বাবু।
এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। মেহেরপুর-কুষ্টিয়া ও গাংনী-চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল তাত্ক্ষণিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে বেলা সাড়ে ১২টা থেকে আবার যান চলাচল শুরু হয়।
র্যাব-৬ গাংনী ক্যাম্প কমান্ডার এএসপি শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, র্যাব ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। উভয় গ্রুপের সংঘর্ষের সময় দয়িত্বরত আনসার সদস্য আশরাফুল ইসলাম আহত হয়। অতিরিক্ত র্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি : গতকাল দুপুরে রূপগঞ্জের ভুলতায় বিজয় শোভাযাত্রার নেতৃত্ব নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের দু’গু্রপের মধ্যে সংঘর্ষে ১৬ জন আহত হয়েছে। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী মনির গ্রুপ ও জনি গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুপুরে বিজয় দিবস উপলক্ষে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী মনির ও জনি পৃথক পৃথক শোভাযাত্রার আয়োজন করে। বেলা ১টায় মিছিল দুটি ভুলতার আজিজ মার্কেটের সামনে এলে মনির গ্রুপ জনি গ্রুপের ওপর হামলা চালায়। পরে জনি গ্রুপ মনির গ্রুপের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১৬ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মনির, সাফি, স্বপন, রাসেল ও ফরহাদকে সাহাবাশপুরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : গতকাল বেলা ১১টায় কুমিল্লার মুরাদনগরে আ’লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিজয় দিবস উপলক্ষে স্থানীয় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ আলমের নেতৃত্বে একটি বিজয় মিছিল কোম্পানিগঞ্জ থেকে মুরাদনগর সদরে যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষ গ্রুপ এর ওপর হামলা চালায়। এতে নবীপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান ওরফে বাকীর ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন আহত হন। জাকিরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : বিজয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ভাষণ উচ্চ স্বরে বাজানোকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের চার নেতাকর্মী প্রহৃত হয়েছেন। গতকাল সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের বাংলাবাজার এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার কাশীপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মশিউর রহমান মিঠু জানান, গতকাল সকাল ৮টায় বাংলাবাজার এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ উচ্চ স্বরে বাজানোয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নুন্নু তাতে বাধা দেন এবং মাইক বন্ধ করতে বলেন। ওই সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের অপর নেতা শাহজাহানের সঙ্গে নুন্নুর বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নুন্নু আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহানকে মারধর করেন। ওই খবর জানতে পেরে যুবলীগ নেতা মিঠু ও ছাত্রলীগ নেতা দর্পণ ঘটনাস্থলে যান। একপর্যায়ে নুন্নুর নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা হলে আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান, নাজির মণ্ডল, যুবলীগ নেতা মশিউর রহমান মিঠ এবং ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল আহমেদ দর্পণ আহত হন।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হাটগোপালপুরে বিজয় দিবস উপলক্ষে ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, হাটগোপালপুরের রায়চরণ তারিনীচরণ ডিগ্রি কলেজ মাঠে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের উদ্যোগে গতকাল বিকালে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে কলেজ মাঠে মঞ্চ নির্মাণ করা হয় এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাসকে প্রধান অতিথি করে বিভিন্ন মহলে চিঠি বিলি করা হয়। কিন্তু অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম অপুকে নিমন্ত্রণ না করায় হাটগোপালপুর এলাকার আ’লীগ নেতা ইমাজুল হোসেন, হাফিজুর রহমান তোতা ও কবির হোসেনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী মঞ্চ ভাংচুর করে। এ সময় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়।
জাবি প্রতিনিধি : ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ ঘটনায় ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে রেফারি লাঞ্ছিত হন।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মওলানা ভাসানী হল ও কামাল উদ্দিন হলের মধ্যে চ্যান্সেলর কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার ফাইনাল ম্যাচ চলছিল গতকাল। খেলার একপর্যায়ে ফিফা রেফারি মাহাবুবুর রহমান মওলানা ভাসানী হলের অনুকূলে ফাউলের বাঁশি বাজালে কামাল উদ্দিন হলের ছাত্রলীগ কর্মীরা রেফারির দিকে তেড়ে যায়। এ সময় ভাসানী হলের ছাত্রলীগ কর্মীরা এগিয়ে গেলে দু’গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
চুয়েট ও চবি প্রতিনিধি : বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষে আহত হয়েছে ৩৫ জন। কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ এবং গতকাল বিকাল ৫টার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়।
১৫ ডিসেম্বর বিকাল থেকে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে কে আগে শহীদ মিনারে ফুল দেবে এবং শহীদ মিনার দখলে রাখবে—এ নিয়ে বাদানুবাদ দেখা দেয়। এর জের ধরে রাত সাড়ে ১১টায় উভয় গ্রুপে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৩৫ নেতাকর্মী আহত হয়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৬ ডিসেম্বর বিকাল ৫টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় এবং সব ক্লাস ও পরীক্ষা জানুয়ারির ২ তারিখ পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৫ ডিসেম্বর সকাল থেকেই ছাত্রলীগ-সমর্থিত গণি-নূরউদ্দীন ও শাহীন-সুজন গ্রুপ বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনার দখল করে একে অপরকে প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিতে থাকে। বিকালের দিকে তাদের এ প্রস্তুতি ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত না হওয়ায় রাত ১২টায় দু’গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের প্রায় ৩৫ নেতাকর্মী আহত হয়। আহতদের চুয়েট মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয় এবং গুরুতর আহত ১৫ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আহতদের মধ্যে সুজন, সাজিদ, সুরজিত, সাঈদ, লুত্ফর ও আরিফের অবস্থা গুরুতর। পরে গণি-নূরউদ্দিন গ্রুপ সুজন- শাহীন গ্রুপকে হটিয়ে ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং ৪টি হলের ১৫/১৬টি রুম ও ৭/৮টি কম্পিউটার ভাংচুর করে। সংঘর্ষের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আয়োজিত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ড. শ্যামল কান্তি বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্েদশ দিয়েছে।
এদিকে চবি প্রতিনিধি জানান, বিজয় দিবসের ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকা ও ১নং সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রলীগ কর্মীদের সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে চবি ছাত্রলীগের (মেয়র গ্রুপ) দুটি গ্রুপ শহীদ মিনারে পৃথকভাবে ফুল দিতে যায়। এ সময় এক গ্রুপের নেতা নাসির উদ্দিন মিন্টু ফুল দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সময় অপর গ্রুপের রিয়েল, তারেক ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত ছাত্র জুয়েল তার ওপর হামলা চালায়। হামলায় মিন্টু মারাত্মকভাবে আহত হন। তাকে প্রথমে চবি মেডিকেল সেন্টার ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার জের ধরে মিন্টুর অনুসারী এবং রিয়েল, তারেক ও জুয়েলের অনুসারীদের মধ্যে চবি ১নং সড়কে প্রায় ২ ঘণ্টা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। পরে চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. আবু ইউসুফের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
মেহেরপুর প্রতিনিধি : মহান বিজয় দিবসে গাংনী আ’লীগের বিবদমান দু’গ্রুপের একই স্থানে অনুষ্ঠান করাকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে আহত হয়েছে গাংনী পৌরসভার কর্মচারীসহ ২০ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র্যাব-পুলিশ লাঠিচার্জ করে। আহতদের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় কয়েকটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন যুবলীগ নেতা মহিবুল, গাংনী পৌরসভা কর্মী মাহাতাবউদ্দিন, যুবলীগ নেতা আনিসুজ্জামান, ষোলটাকা ইউনিয়ন আ’লীগ সেক্রেটারি একরামুল হক, পথচারী রবিউল ইসলাম, আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য আশরাফুল ইসলাম, নুরুল, ফারুক ও আকাশ, হাজী মহসিন, পারভেজ, সেলিম, বাবু, কেরু, মোফাজ্জেল, আলমগীর, আনিছুর, রবি, ইউনুছ ও বাবু।
এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। মেহেরপুর-কুষ্টিয়া ও গাংনী-চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল তাত্ক্ষণিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে বেলা সাড়ে ১২টা থেকে আবার যান চলাচল শুরু হয়।
র্যাব-৬ গাংনী ক্যাম্প কমান্ডার এএসপি শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, র্যাব ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। উভয় গ্রুপের সংঘর্ষের সময় দয়িত্বরত আনসার সদস্য আশরাফুল ইসলাম আহত হয়। অতিরিক্ত র্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি : গতকাল দুপুরে রূপগঞ্জের ভুলতায় বিজয় শোভাযাত্রার নেতৃত্ব নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের দু’গু্রপের মধ্যে সংঘর্ষে ১৬ জন আহত হয়েছে। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী মনির গ্রুপ ও জনি গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুপুরে বিজয় দিবস উপলক্ষে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী মনির ও জনি পৃথক পৃথক শোভাযাত্রার আয়োজন করে। বেলা ১টায় মিছিল দুটি ভুলতার আজিজ মার্কেটের সামনে এলে মনির গ্রুপ জনি গ্রুপের ওপর হামলা চালায়। পরে জনি গ্রুপ মনির গ্রুপের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১৬ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মনির, সাফি, স্বপন, রাসেল ও ফরহাদকে সাহাবাশপুরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : গতকাল বেলা ১১টায় কুমিল্লার মুরাদনগরে আ’লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিজয় দিবস উপলক্ষে স্থানীয় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ আলমের নেতৃত্বে একটি বিজয় মিছিল কোম্পানিগঞ্জ থেকে মুরাদনগর সদরে যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষ গ্রুপ এর ওপর হামলা চালায়। এতে নবীপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান ওরফে বাকীর ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন আহত হন। জাকিরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : বিজয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ভাষণ উচ্চ স্বরে বাজানোকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের চার নেতাকর্মী প্রহৃত হয়েছেন। গতকাল সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের বাংলাবাজার এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার কাশীপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মশিউর রহমান মিঠু জানান, গতকাল সকাল ৮টায় বাংলাবাজার এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ উচ্চ স্বরে বাজানোয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নুন্নু তাতে বাধা দেন এবং মাইক বন্ধ করতে বলেন। ওই সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের অপর নেতা শাহজাহানের সঙ্গে নুন্নুর বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নুন্নু আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহানকে মারধর করেন। ওই খবর জানতে পেরে যুবলীগ নেতা মিঠু ও ছাত্রলীগ নেতা দর্পণ ঘটনাস্থলে যান। একপর্যায়ে নুন্নুর নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা হলে আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান, নাজির মণ্ডল, যুবলীগ নেতা মশিউর রহমান মিঠ এবং ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল আহমেদ দর্পণ আহত হন।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হাটগোপালপুরে বিজয় দিবস উপলক্ষে ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, হাটগোপালপুরের রায়চরণ তারিনীচরণ ডিগ্রি কলেজ মাঠে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের উদ্যোগে গতকাল বিকালে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে কলেজ মাঠে মঞ্চ নির্মাণ করা হয় এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাসকে প্রধান অতিথি করে বিভিন্ন মহলে চিঠি বিলি করা হয়। কিন্তু অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম অপুকে নিমন্ত্রণ না করায় হাটগোপালপুর এলাকার আ’লীগ নেতা ইমাজুল হোসেন, হাফিজুর রহমান তোতা ও কবির হোসেনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী মঞ্চ ভাংচুর করে। এ সময় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়।
জাবি প্রতিনিধি : ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ ঘটনায় ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে রেফারি লাঞ্ছিত হন।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মওলানা ভাসানী হল ও কামাল উদ্দিন হলের মধ্যে চ্যান্সেলর কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার ফাইনাল ম্যাচ চলছিল গতকাল। খেলার একপর্যায়ে ফিফা রেফারি মাহাবুবুর রহমান মওলানা ভাসানী হলের অনুকূলে ফাউলের বাঁশি বাজালে কামাল উদ্দিন হলের ছাত্রলীগ কর্মীরা রেফারির দিকে তেড়ে যায়। এ সময় ভাসানী হলের ছাত্রলীগ কর্মীরা এগিয়ে গেলে দু’গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
-
প্রথম পাতা


সাধারণ বিভাগ
আবহাওয়া

