Amardesh
আজঃ ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৭ ডিসেম্বর ২০০৯, ৩ পৌষ ১৪১৬, ২৯ জিলহজ ১৪৩০     আপডেট সময়ঃ রাত ২টা
 
 সাধারণ বিভাগ
 বিশেষ কর্ণার
 সাপ্তাহিকী
 শোক ও মৃত্যুবার্ষিকী
 বিশেষ বিভাগ
 
আবহাওয়া
 
 
আর্কাইভ: --

বিজয় দিবসে দেশগড়ার প্রত্যয়

স্টাফ রিপোর্টার
ব্যাপক উত্সাহ-উদ্দীপনা, স্বনির্ভর, সুখী দেশ গড়া এবং গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার প্রত্যয়ে গতকাল সারাদেশে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে।
বিজয়ের গৌরবগাথা যখন বদলে ফেলার চেষ্টা চলছে, স্বাধীনতা ঘোষণার ইতিহাস বদলানোর চেষ্টাও যখন প্রাণান্তকর, রাষ্ট্রযন্ত্র এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রচেষ্টা যখন পুরো জাতির ঝাঁপিয়েপড়া যুদ্ধকে ব্যক্তি ও দলের যুদ্ধ বলে চালানো, যখন দেশজুড়ে চলছে বিচারবহির্ভূত হত্যার মচ্ছব, বাংলাদেশের জন্মোত্সব পালনের কথা বলে যখন চলছে সরকার দলীয় ক্যাডারদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি—এই অসহিষ্ণু সময়ে বাংলাদেশ পূরণ করেছে ৩৮ বছর। প্রত্যাশা-প্রাপ্তির বিস্তর ফারাক সত্ত্বেও স্বপ্নচারী মানুষ দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা নিয়ে এই দিনটি উদযাপন করেছেন। সূর্যোদয়ের ঠিক আগ মুহূর্তে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। ভোর ৭টায় সমগ্র জাতির পক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান এবং এরপরই মন্ত্রী পরিষদ সদস্য, সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। শ্রদ্ধা-আলোচনায় একাত্তরের বীর শহীদদের গভীরভাবে স্মরণ করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় নানা অনুষ্ঠানের। প্রতিবারের মতো এবারও রাজধানী ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোর সমাবেশ ও মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়। গতকাল ছিল সরকারি ছুটি। রাজধানীর সড়ক দ্বীপগুলো জাতীয় ও বর্ণিল পতাকায় শোভিত করা হয়। সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে। বেতার-টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়। রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান বিকালে বঙ্গভবনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধাঞ্জলি ও জনতার ঢল : সাভার থেকে নাজমুল হুদা শাহীন জানান, ভোরের কুয়াশা ঠেলে লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে। সূর্যোদয়ের আগেই রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, তিন বাহিনী প্রধান কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে স্মৃতিসৌধে পৌঁছেন। প্রথমে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, এর পরপরই প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়। এ সময় সেনাবাহিনীর বাদক দলের বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। সেনা সদস্যদের একটি সুসজ্জিত দল শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদনে সশস্ত্র সালাম জানায়। স্মৃতিসৌধ বেদি প্রাঙ্গণে এ সময় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, কূটনৈতিকবৃন্দ পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর সকাল ৮টায় দর্শকদের জন্য স্মৃতিসৌধ চত্বর উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সকাল ৮টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে দলের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনসহ নবনিযুক্ত স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ, ৭ যুগ্ম মহাসচিব উপস্থিত ছিলেন। যুবদল, ছাত্রদল, কৃষক দল, মহিলা দল, জাসাস, জিয়া পরিষদ পৃথকভাবে স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহম্মদ এমপি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আ.আ.ম.স. আরেফিন সিদ্দিক, জাবি উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাবি ও জাবির বিভিন্ন হল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, সিপিবি সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খান, কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, একে খন্দকার এমপির নেতৃত্বে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর নেতৃত্বে পিডিপি, জাসদের আ.স.ম. আবদুর রব ও জাসদের হাসানুল ইনু এমপি নিজ নিজ আদর্শের অনুসারীদের নিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
বিভিন্ন সংগঠনের শ্রদ্ধা নিবেদন : এছাড়াও জাতীয় স্মৃতিসৌধে অন্য যেসব সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে সেগুলো হচ্ছে—শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হাক্কানী খানকা শরিফ, গণতন্ত্রী পার্টি ছাত্রলীগ, যুবলীগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, সিআরপি, অফিসার্স ক্লাব ঢাকা, কৃষক লীগ, সাভার উপজেলা বিএনপি, সমবায় অধিদফতর, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, আমার দেশ পাঠকমেলা সাভার কমিটি, ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন, ডিআরইউ বহুমুখী সমবায় সমিতি, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ, তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত্ বন্দর রক্ষা কমিটি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বিসিআইসি মাশরুম ফাউন্ডেশন, বিসিআইসি, ঊষা সংঘ, সেফ বাংলাদেশ, বিবেক ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, স্যার জিজে হার্টস ইন্টারন্যাশনাল, হল নোফেল কল্যাণ সংস্থা, খ্রিস্টান এসোসিয়েশন, দি খ্রিস্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম এমপি, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, অস্ট্রেলিয়ান বার এসোসিয়েশন, সাভার থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, সড়ক পরিবহন ফেডারেশন, বঙ্গবন্ধু ভেটেরেনারি পরিষদ, বাংলা একাডেমি, ঢাবি শিক্ষক সমিতি, জাবি শিক্ষক সমিতি, ঢাবি অফিসার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, জনতা ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশন, ১১ দল, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন, যুব মৈত্রী, ছাত্র মৈত্রী, নারী মুক্তি সংসদ, গার্মেন্ট শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), কর্মজীবী নারী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, মুক্তিযোদ্ধা আইনজীবী পরিষদ, রূপালী ব্যাংক কর্মচারী সংঘ, ঢাকা সাব-এডিটর কাউন্সিল, নজরুল ইনস্টিটিউট, সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশন, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি, সাভার পৌরসভা, প্রজন্ম ’৭১, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট, যুব উন্নয়ন অধিদফতর, সড়ক ও জনপথ প্রকৌশল সমিতি, পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ, বাসদ, বার কাউন্সিল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা নৌ-কমান্ড, ডেফোডিল ইউনিভার্সিটি, টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, মহিলা পরিষদ, সাম্যবাদী দল, বিজেপি, সচেতন নাগরিক কমিটি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, এনজিও সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়ন, উদীচী, খেলাঘর আসর, গণফোরাম, স্বাচিপ, বিএমএ, ঢাকা আইনজীবী সমিতি, সোনারবাংলা পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, জাতীয় ভাড়াটিয়া পরিষদ, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পকলা একাডেমি, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট, অবয়ব খেলাঘর, গণবিশ্ববিদ্যালয়, ফিজিওথেরাপি এসোসিয়েশন, ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশন, ছাত্র ঐক্য ফেরাম, বিকল্প ধারা, সিএ এসোসিয়েশন, প্রাইম ব্যাংক, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট এসোসিয়েশন, শিল্প ব্যাংক, জাতীয় জনতা পার্টি, মজদুর পার্টি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইম ইউনিভার্সিটি, ন্যাপ (মোজাফফর), বুয়েট গাজীপুর, ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ, আশুলিয়া প্রেসক্লাব, জাবি সাংবাদিক সমিতি, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ব্যক্তিগতভাবে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। অনেকেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন এবং দেশ গড়ার অঙ্গীকার।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে কোরআনখানি আয়োজন করে। পরে মসজিদের দক্ষিণ চত্বরে আয়োজিত বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে স্বাধীনতা যুদ্ধের সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের অব্যাহত শান্তি-অগ্রগতি কামনা করা হয়।
এছাড়া ইসলামী ঐক্যজোট, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক লীগ, বাংলাদেশ সংস্কৃতি কেন্দ্র, গণফ্রন্ট ও ন্যাপ ভাসানী, টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংগঠনও আলাদাভাবে আলোচনা সভার আয়োজন করে।
গতকাল সকালে ঢাকা সিটি করপোরেশনে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে বিজয় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নগরীর প্রধান উত্সব কেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা উদ্যান, চারুকলা ইনস্টিটিউট ও সংসদ ভবন এলাকায় উত্সবমুখর মানুষের সরব উপস্থিতি ছিল। রাস্তাঘাটে মোটরসাইকেল বা গাড়িতে আল্পনা আঁকা মুখ নিয়ে সপরিবারে মানুষের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
সশস্ত্রবাহিনীর কর্মসূচি : প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় সূর্যোদয়ের সময় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবস উদযাপন শুরু করে। সারাদেশে সশস্ত্রবাহিনীর বিভিন্ন সদর দফতর, স্থাপনা, ইউনিট এবং ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। দেশব্যাপী সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সব মসজিদে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
বিজয় দিবসে রাষ্ট্রপতি, বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ জাতীয় নেতা এবং সর্বস্তরের মানুষের পুষ্পার্ঘ্য অর্পণকে কেন্দ্র করে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় নেয়া হয় চারস্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তবে শতাধিক ব্যক্তির মোবাইল সেট হারিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শিশুদের বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিশু-কিশোরদের শরীরচর্চা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান। অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি রংবেরংয়ের বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এর শুভ উদ্বোধন করেন। তিনি ছাত্রছাত্রীদের উপস্থাপিত মনোমুগ্ধকর শরীরচর্চা প্রদর্শনী দেখেন।
শিশুদের জাতির ভবিষ্যত্ কারিগর হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘আগামী বাংলাদেশের চাকা তোমাদের হাত দিয়ে ঘুরবে। তাই তোমাদের তৈরি হতে হবে।’ শিশুদের মধ্যে দেশপ্রেম বাড়ানো সম্পর্কে তিনি বলেন, একজন নাগরিক তখনই সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে যখন তার মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত হয়। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল সারাদেশে উত্সবের আমেজ সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সংস্কৃতিক সংগঠন এ দিবসটি উদযাপনে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। রাজধানীতে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও পার্কগুলোতে সংগীতানুষ্ঠান, ফ্যাশন শো, মঞ্চনাটক, শোভাযাত্রা, ফিল্ম ফ্যাস্টিভেলের আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করার দাবি জানান। তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়লাভের ৩৮ বছর পরও ইতিহাস সঠিকভাবে লেখা হয়নি। কায়েমী স্বার্থবাদীরা নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের স্বার্থে বারবার ইতিহাস বিকৃত করেছে। জাতির ঘাড়ের ওপর নিজেদের মতো করে একটি ইতিহাস চাপিয়ে দিয়েছে।
এবারই প্রথমবারের মতো ঢাকা জেলা প্রশাসন বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ছয় গুণী ব্যক্তিকে ‘বিজয় দিবস পদক-২০০৯’ পদক দেয়। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজিত শিশু-কিশোর সমাবেশে রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান এই ছয় গুণী ব্যক্তির হাতে পদক তুলে দেন। পদকপ্রাপ্তরা হলেন সংস্কৃতিতে সন্জীদা খাতুন, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিতে মুহম্মদ জাফর ইকবাল, শিক্ষায় আআমস আরেফিন সিদ্দিক, সাংবাদিকতায় আবেদ খান, জনপ্রশাসনে মোঃ আবদুল মোবারক ও ক্রীড়ায় সাকিব আল হাসান।
বাংলা একাডেমী দিবসটি উপলক্ষে আয়োজন করে ’একাত্তরের ব্রাত্যজনের যুদ্ধকথা’ শীর্ষক স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান। নজরুল মঞ্চে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক বোরহানউদ্দীন খান জাহাঙ্গীর, শাহরিয়ার কবির, মেজর (অব.) শামসুল আরেফিন। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী।
দিবসটি উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনের মধ্যে সকালে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন, ৩৯টি সাদা কবুতর ও ১৬ গোছা বেলুন ওড়ানো, ১৬টি ঢাকের বাদ্যসহ শোভাযাত্রা। বিকালে একাডেমি প্রাঙ্গণে বিজয় মঞ্চে ঢোলবাদন, আবৃত্তি, নৃত্য ও সঙ্গীত পরিবেশন। সন্ধ্যায় একাডেমির পক্ষ থেকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ২৫ শিল্পীকে দেয়া হয় বিজয় স্মারক ২০০৯। পরিকল্পনামন্ত্রী একে খন্দকার তাদের হাতে এ পদক তুলে দেন। পরে জহির রায়হান নির্মিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র স্টপ জেনোসাইড ও তারেক মাসুদ নির্মিত মুক্তির গান প্রদর্শিত হয়।
বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবি আল মাহমুদ বলেন, পৃথিবীর সব জাতির স্বাধীনতার ইতিহাস রক্ত দিয়ে লেখা। স্বাধীনতার ৩৮ বছর পরেও আমাদের প্রাপ্তির ইতিহাস নিয়ে হিসাব করতে হচ্ছে। অনুষ্ঠানে অন্য বক্তারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য তরুণ সমাজকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। অধ্যাপক মুহাম্মদ মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ত্রৈমাসিক ‘কলম’ সম্পাদক কবি সাজ্জাদ হোসাইন খান, নজরুল ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক কবি আবদুল হাই শিকদার, কবি হাসান আলীম, কবি আহমদ বাসির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এবারের বিজয় দিবস উপলক্ষে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত ৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের গতকাল ছিল চতুর্থ দিন। সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য বিজয় শোভাযাত্রা। মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকাল ৪টায়। ‘বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত’ শীর্ষক আয়োজনে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন মানজারুল ইসলাম চৌধুরী। দলীয় সঙ্গীতে অংশ নেয় সুরসপ্তক, সুরতাল, সত্যেন সেন শিল্পী সংস্থা, সৃজন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ছাড়াও স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর, ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবর, রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ, মিরপুরের এটিএম শামসুদ্দিন মঞ্চ, পুরনো ঢাকার সূত্রাপুরে জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে জোটের আয়োজনে বিজয় উত্সব পালিত হয়। আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, সমাবেশের মাধ্যমে বিজয় দিবস উদযাপন করে কর্মজীবী নারী। ‘অঙ্গীকার হোক সকলের, শপথ হোক এবার, মাতৃভূমিতে এখনই চাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার’—এ দাবিতে সংগঠনটির উদ্যোগে ঢাকার ১৫টি স্থানসহ সারাদেশে ৩৫টি জেলায় বিজয় উত্সব পালন করা হয়।
উত্তরা কালচারাল সোসাইটি বিজয় দিবস উপলক্ষে উত্তরা রবীন্দ্র সরণি, লেকপাড় ও বটতলায় দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিজয় মেলার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে নৌপরিবহনমন্ত্রী জিএম কাদের উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, স্বাধীনতার ৩৮ বছর পর আর কোনো বিভেদ নয়। নতুন প্রজন্মকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ উপহার দেয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে পালিত হয় এবারে বিজয় দিবস। একইসঙ্গে
 
সদস্য লগইন
ইউজার আইডি :
পাসওয়ার্ড :
সাইন আপ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন ?